ঢাকা ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

নৌ-পুলিশের ধাওয়ায় জেলের মৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটুয়াখালী
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:১৪:৩৬
নৌ-পুলিশের ধাওয়ায় জেলের মৃত্যুর অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রাবনাবাদ নদীর ঢোশ পয়েন্টে পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশের ধাওয়ায় মাছ ধরা ট্রলারের জেলে সুজন হাওলাদারের (৩০) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ট্রলারটিতে ঘটনার সময় পাঁচ জেলে ছিলেন। তাদের দাবি, পুলিশের মারধরের ফলেই মারা গেছেন সুজন।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে দশটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত সাগরে ওই মাছ ধরা ট্রলারটিকে ধাওয়া করে নৌ-পুলিশ। দুপুরে ট্রলারটি ঢোশ এলাকায় পৌঁছলে ওই জেলের মৃতদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও জেলে পল্লীর শতশত নারী-পুরুষ ট্রলারসহ নৌ-পুলিশ সদস্যদের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে।

No description available.

খবর পেয়ে পটুয়াখালী, কলাপাড়া ও মহিপুর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জনতার হাতে অবরুদ্ধ পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশের এএসআই মামুনসহ চার পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে।

নিহত জেলে সুজন হাওলাদার কলাপাড়ার চর বারিয়াতলী গ্রামের মৃত সত্তার হাওলাদারের ছেলে। তার মরদেহ উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

ট্রলারের মাঝি মাসুদ চৌধুরী জানান, তিনিসহ জেলে সুজন, মামুন, তারেক ও সেলিম সকাল সাড়ে দশটার দিকে ঢোশ এলাকা থেকে ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ শিকারের জন্য বের হয়। ট্রলারটি সাগর মোহনা অতিক্রম করার সময় পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশের এএসআই মামুন তাদের ট্রলারটি অবৈধ জাল আছে কিনা দেখতে ধাওয়া করে।

এ সময় তারা প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রলার চালিয়ে ঢোশ পয়েন্টে ট্রলারটি রেখে চার জেলে দৌড়ে তীরে উঠতে পারলেও সুজন ট্রলারে আটকা পড়ে। এ সময় পুলিশ সুজনকে মারধর করে।

নিহত জেলের মামা ইব্রাহীম খলিল বলেন, তারা খবর শুনে এসে দেখেন ট্রলারে তার ভাগনের লাশ পড়ে আছে। পুলিশ মৃতদেহটি ঘিরে রেখেছে।

এদিকে জেলে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকার শতশত মানুষ রাবনাবাদ নদী তীরে ভীড় করে বিক্ষোভ করে। কয়েক ঘন্টা ধরে বিক্ষোভে তারা অভিযুক্ত নৌ-পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। পরবর্তীতে পটুয়াখালী ও কলাপাড়া থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে স্থানীয়দের দাবি নিহত জেলের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক।

কলাপাড়া হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সায়মা সুলতানা বলেন, তারা নিহত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে দেখেছেন। শরীরের বাহ্যিক অংশে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো: শহিদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তিনি মুঠোফোনে জানান, স্থানীয়রা পুলিশের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে এবং জেলে মৃত্যুর ঘটনায় নৌ-পুলিশকে দায়ী করছে। তাই তারা সর্বস্তরের মানুষকে বুঝিয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন। এখন পরবর্তীতে আইনিভাবে বিষয়টি দেখা হবে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী আহমেদ মুঠোফোনে জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছেন। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহত জেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।


একাত্তর/আরএ


মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন