ঢাকা ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

শরতের শুভ্র শোভা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৬:৫৮:৩৫ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৮:০৪:০১
শরতের শুভ্র শোভা

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলগুলোতে স্নিগ্ধতা ছড়াচ্ছে কাশফুল। কাশফুল কারো কারো জন্যে বয়ে আনছে মনের বিনোদন, আর প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষের জন্য আনছে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। 

কবি জসীমউদ্দিন ‘বিরহী নারী’ মননে কবিতায় লিখেছেন-‘গণিতে গণিতে শ্রাবণ কাটিল, আসিল ভাদ্র মাস, বিরহী নারীর নয়নের জলে ভিজিল বুকের বাস’। এমন শতশত উক্তি রয়েছে বাংলার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়া কাশফুল নিয়ে। কারো জন্য কাশফুল মনের মুগ্ধতা বাড়ায় আবার কারো জন্য অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বাড়ায়। প্রকৃতিতে যখন শরৎকাল আসে তখন কাশফুলই জানিয়ে দেয় তার আগমনী বার্তা। 

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলগুলোতে প্রকৃতিতে কাশফুলের রাজত্ব দেখে যে কারোই চোখ-মন জুড়িয়ে আসবে। কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন প্রকৃতিপ্রেমীদের পদচারণে মুখরিত জেলার চরাঞ্চলগুলো। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে চরাঞ্চলের বড় বড় ঝাউ গাছগুলো। এসব ঝাউ গাছে লাল, গোলাপি, হলুদসহ বিভিন্ন রংয়ের ফুল ধরা বাড়তি আকর্ষণ বাড়িয়েছে অবহেলিত চরাঞ্চলগুলোতে। কাশফুলের বাতাসে দোল খাওয়ার দৃশ্য যেন মন কাড়বে সবার। 


প্রতিবছর শরতের এই সময়টাতে চরাঞ্চলে শহরের মানুষের পদচারণ পড়ে। পড়ন্ত বিকেলে মুহূর্তের দৃশ্য অন্যরকম। কেউবা সপরিবারে ঘুরতে আসেন আবার কেউ প্রিয়জনের সাথে আসেন সোনালী শরতের মিষ্টি গন্ধের স্বাদ নিতে। 

আরও পড়ুন: পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা অনিন্দ্যসুন্দর শিলাছড়া ঝর্ণা

কাশফুল মূলত ছন গোত্রীয় এক ধরনের ঘাস। ঘাস জাতীয় উদ্ভিদটি উচ্চতায় সাধারণত সাত থেকে আট ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। গাছটির চিরল পাতার দুই পাশ বেশ ধারালো। কাশবন শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এর রয়েছে নানা ঔষধি গুণও। নদীর ধার, জলাভূমি, চরাঞ্চল, শুকনো এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের উঁচু স্থানে কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে। তবে নদীর তীরেই কাশফুল বেশি জন্মাতে দেখা যায়। গ্রাম বাংলার অপরূপ শোভা কাশবন একসময় চিরচেনা দৃশ্য হলেও, এই কাশবন এখন আগের মতো চোখে পড়ে না। চরের মধ্যে কাশফুল আর ওলা (ঝাউ) গাছ দিয়ে ঘরের বেড়া, ছাউনি, ঝাড় এবং খড়ি বানানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। আর এসব বিক্রি করে সংসারের বাড়তি আয় করছেন চরের বাসিন্দা। 


পানের বরজের জন্য স্থানীয়ভাবে কাশিয়া নামে পরিচিত এই কাশফুল রাজশাহী, খুলনা, বরিশালসহ দেশের অনেক জায়গায় যাচ্ছে নৌকাযোগে। চরের পরিত্যক্ত বালু জমিতে একাই হয় কাশিয়া। এর জন্য কোন খরচ করতে হয়না। কাশিয়া সাত থেকে আট ফুট লম্বা হয়। এর ফুল আড়াই থেকে তিন ফুট। প্রতি বছরের কার্তিক মাসে (অক্টোবর,নভেম্বর) কাশিয়া কাটা হয়। এক বিঘা জমিতে প্রায় পনেরশ থেকে দু’ হাজার কাশিয়ার আটি হয়। কাশিয়ার কেটে ১৪ ইঞ্চি করে আটি বেঁধে ১০-১২ টাকা দরে বিক্রি হয়। গড়ে প্রতি বিঘা জমি থেকে কাশিয়া থেকে ১০-১২ হাজার টাকা আসে। যার সাহায্যে কার্তিক মাসে অভাব মোকাবেলা করেন এই জনপদের মানুষ। 

কাশফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, এর ঔষধি গুণও রয়েছে। মানুষের পিত্তথলিতে পাথর এবং শরীরে কোথাও ফোঁড়ার সৃষ্টি হলে সেই ব্যথা উপশমে কাশফুলের মূল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কাশ আমাদের পরিচিত উদ্ভিদ হলেও এর আদি নিবাস রোমানিয়ায়। এর ইংরেজি নাম ক্যাটকিন এবং বৈজ্ঞানিক নাম হলো স্যাকরারাম এসপোটেনিয়াম। 


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন