ঢাকা ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮

কাজ কম বেশি হলেও খরচ হবে সমান ক্যালোরি?

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২১ ১৬:৪৮:৩১ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২১ ১৬:৫০:২৯
কাজ কম বেশি হলেও খরচ হবে সমান ক্যালোরি?

আধুনিক জীবন-যাপনে চেয়ারে বসেই যখন দিনের মোটা একটি অংশ পার হচ্ছে, যখন কাজের ধরনই এমন যে জীবন ধারণের জন্য বসে কাজ করতে হচ্ছে তখন স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক দিক বিবেচনায় এ ভাবনাই প্রতিষ্ঠিত হয় যে শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালোরি খরচ করতে পারছে না। আর যেহেতু শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালোরি খরচ করতে পারছে না, তাই অনবরত অস্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে।

দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ধারণা হোক কিংবা বিশ্বাস, কম-বেশি সবারই ভাবনায় এ বিষয়টি জায়গা করে নিয়েছে।

কিন্তু একদিন হঠাৎ যদি শোনা যায় প্রতিদিনের কাজের বাইরে অতিরিক্ত কিছুই আমাদের শরীরের প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজনের বেশি কাজ করে অতিরিক্ত ক্যালোরিও খরচ হয় না, কেমন লাগবে তখন?

এমনই এক তথ্য বেরিয়ে এসেছে গবেষণায়।


বিবর্তনের ধারায় সভ্যতার বর্তমান পর্যায়ে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে প্রযুক্তির উৎকর্ষ জীবনকে করেছে সহজ। প্রাচীনকালে শুধু নিজেদের টিকে থাকার জন্যই মানুষকে খাবারের খোঁজে কিংবা অন্যের খাবার হয়ে যাবার হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে যে পরিশ্রম করতে হতো তা থেকে বর্তমান মানুষের অবস্থান ঢের দূরে। কমেছে প্রতিদিনের পরিশ্রম। সাধারণ ধারণায় তাহলে কি কমছে ক্যালোরি খরচের পরিমাণ?

এ প্রশ্নের উত্তর বের করতে উত্তর তানজানিয়ায় এখনো টিকে থাকা কিছু শিকারী সম্প্রদায়ের একটি হাজদার ওপর গবেষণা কাজ পরিচালিত হয়। আধুনিক জীবনব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন এই সম্প্রদায় শিকারের ওপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। তীর-ধনুক দিয়ে শিকার করা প্রাণী ও মাটির নিচে জন্মানো শষ্য খেয়েই জীবনধারণ করে তারা।

আরও পড়ুন: সাজের পূর্ণতায় ব্লাউজের সাথে মানানসই গয়না

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায় হাজদা সম্প্রদায়ের সাথে সাধারণ অ্যামেরিকানদের তুলনায় একদিনে উভয়েরই একই পরিমাণ ক্যালোরি খরচ হয়েছে।

ফলাফল সন্দেহ তৈরি করায় অন্যান্য শিকারী সম্প্রদায়ের সাথে একই গবেষণা পুনরায় করা হলে, অভিন্ন ফলাফল আসে।

এর মূল কারণ হিসেবে গবেষকরা জানান, মানুষের শরীর প্রয়োজন কিংবা পুরষ্কার না পেলে অযথা কাজের জন্য বিবর্তিত হয়নি। টিকে থাকার জন্য তার প্রয়োজনীয় কাজটুকুকেই শরীর গ্রহণ করে এবং সে অনুযায়ী ক্যালোরি ক্ষয় করে।


গবেষণাগারের ইঁদুর ও চিড়িয়াখানার বানরের ওপরও গবেষণা চালিয়ে একই ফলাফল পাওয়া যায়।

'এক্সারসাইজড' গ্রন্থের লেখক ড. লিবারম্যানের মতে, এটি জেনে কোনোভাবেই শারীরিক চর্চায় অনুৎসাহিত হওয়া উচিৎ না। ব্যায়াম কিংবা শারীরিক চর্চা পড়াশোনার মতোই একটি আধুনিক কাজ। কয়েকশ বছর আগে পড়াশোনা মানুষের জীবনে অনুপস্থিত থাকলেও বর্তমানে তা যেমন বিশ্বজনীন, শারীরিক চর্চাকেও সেভাবে দেখা যেতে পারে।

এছাড়াও তিনি জানান, মধ্য বয়সের পর মানুষের কর্মক্ষমতা ও জীবনীশক্তি কমে যায় এমন ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে গবেষণায় দেখা যায়, ২০-৬০ বছর পর্যন্ত মানুষের মেটাবোলিজম সমানভাবে কাজ করে। নিয়মিত শারীরিক চর্চা দীর্ঘ সময় জীবনীশক্তি নিয়ে সুস্থ জীবন-যাপনেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


একাত্তর/টিএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন