ঢাকা ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮

৩৩ বছর নির্জন দ্বীপে কাটিয়ে নতুন জীবন শুরু মাউরো মোরান্ডির

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২১ ২১:৫০:১৪ আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২১ ২১:৫৩:১৮
৩৩ বছর নির্জন দ্বীপে কাটিয়ে নতুন জীবন শুরু মাউরো মোরান্ডির

ইন্টারনেটের বদৌলতে অনলাইন ফলোয়ারদের বড় একটি অংশের কাছে ইতালির রবিনসন ক্রুশো নামে পরিচিত মাউরো মোরান্ডি। ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ লা মাড্ডালেনার একমাত্র অধিবাসী হিসেবে জীবনের ৩৩ বছর কাটিয়েছেন তিনি। সৈকতের পুরনো পাথরের ঘরে নীরবতা, নিঃসঙ্গতা আর শান্তিকে আপন করে নেওয়া মানুষটিকে নির্জন দ্বীপের দেখভালকারীও বলা যেতে পারে।

বন্ধু, দারুণ খাবার কিংবা সামাজিকতার বদলে সেখানে পাখি আর বিড়ালরাই ছিল তার একমাত্র সঙ্গী। অল্প কিছু কাপড় আর শোবার জন্য একটি খাট ছিল তার সম্বল। সব ধরনের আরামকে অস্বীকার করে আত্মপ্রতিফলন আর সাধনাতেই খুঁজে পেয়েছিলেন সন্ন্যাস জীবনের অস্তিত্ব।


দীর্ঘদিন ধরে তাকে উচ্ছেদ করে দ্বীপটিকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করতে চাচ্ছিলো মেরিন পার্ক কর্তৃপক্ষ। অনেক সংগ্রামের পর অবশেষে গেল মে মাসে নিজের ভাগ্যকে স্বীকার করে নেন মাউরো। জায়গাটি ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্তের পর 'আমি বিরক্ত' কথাটিই গাল দিয়ে পোস্টও করেন সামাজিক মাধ্যমে।

৮২ বছরের জীবনের ত্রিশ বছরের নিজের ঘর বদলে নতুন জীবনে যাওয়া বেশ কঠিন হবার কথা। এমন পরিস্থিতিতে আদতেই কি নতুন করে মানিয়ে নেয়া সম্ভব?- সিএনএনের করা এমন এক প্রশ্নের জবাবে মাউরো জানান, 'অবশ্যই সম্ভব। শেষ বলে আসলে কিছু নেই। নতুন জীবন যে শুরু করা সম্ভব আমিই তার জীবন্ত প্রমাণ। বয়স ৮০ পেরোলেও সম্পূর্ন নতুন পৃথিবীতে নতুন অভিজ্ঞতা উপভোগ করা যায়।'


নিজের কথাকে সত্যি প্রমাণিত করে লা মাড্ডালেনা দ্বীপ থেকে সরে এসেও আনন্দময় জীবনযাপন করছেন মাউরো। তিনি বলেন, আমি আনন্দিত। প্রতিদিনের আরামকেও বেশ উপভোগ করছি।

আরও পড়ুন: কাজ কম বেশি হলেও খরচ হবে সমান ক্যালোরি?

শিক্ষক হিসেবে কাটানো জীবনের অবসরকালীন ভাতা দিয়ে নিজের জন্য একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন মাউরো। যেসকল আরাম থেকে এতদিন বিচ্ছিন্ন ছিলেন তার প্রায় সবটাই আছে তার এই নতুন কেনা ফ্ল্যাটে। এছাড়া যোগাযোগে দক্ষতা বাড়াতেও কাজ করছেন মাউরো। নিঃসঙ্গতার এতগুলো বছর পেরিয়ে মাউরো এখন সামাজিক মাধ্যমে মানুষের সাথে কথা বলতে ও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করে সবার সাথে যোগাযোগে আগ্রহী। এরই মধ্যে নিজের স্মৃতিও লিখা শুরু করেছেন নতুন জীবন শুরু করা এই মানুষটি।


একাত্তর/টিএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন