ঢাকা ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮

‘মুসার হাজার কোটি টাকার সম্পদ শিশুসুলভ গালগল্প’

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২১ ২১:৩৮:১৫ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১১:৪২:৫৩
‘মুসার হাজার কোটি টাকার সম্পদ শিশুসুলভ গালগল্প’

নিজেকে ধনকুবের পরিচয় দেয়া মুসা বিন শমসেরের সুইস ব্যাংকে থাকা আট হাজার ২০০ কোটি ডলারের গল্প শিশুসুলভ গালগল্প বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপির গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের যুগ্ম-কমিশনার হারুন-অর-রশিদ।

গোয়েন্দা কার্যালয়ে মুসা বিন শমসের ও তার স্ত্রী-সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় নিজেকে ধনকুবের পরিচয় দেয়া মুসা বিন শমসেরকে সাড়ে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গোয়েন্দা কর্মকর্তা তাকে ‘অন্তঃসারশূন্য’ উল্লেখ করে বলেন, মুসা তার অঢেল সম্পদের যে দাবি করেন, সেসবের কিছু নেই।

এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরো বলেন, মুসা বিন শমসের প্রতারক কাদেরকে তার আইন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তাকে ২০ কোটি টাকার চেক দিয়েছেন। তাকে ‘বাবা, সোনা’ বলেও ডাকতেন বলেও জানান হারুন অর রশিদ।

তবে জিজ্ঞাসাবাদে মুসা দাবি করেছেন, সুইস ব্যাংকে তার ৮২ মিলিয়ন ডলার আটকে আছে। বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। এই টাকা আনতে পারলে তিনি পুলিশকে দেবেন ৫০০ কোটি টাকা।

সন্ধ্যা ৭টার পর ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে মুসা বিন শমসের সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার হারুন-অর-রশিদ ডেকেছিলেন। একজন প্রতারক আব্দুল কাদের অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে আমার অফিসে গিয়েছিলেন। আমার সঙ্গে বিভিন্ন সময় সে ছবি তোলে। এবং মাঝে মাঝে আমার সামনে বসে বড় পদের লোকদের সঙ্গে সে কথা বলতো। একসময় আমার কাছে প্রমাণিত হয় ‑ সে কোন অতিরিক্ত সচিব নয়, একজন প্রতারক। পরে তাকে আমার এখান থেকে বের করে দেই। তার বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আমি স্পষ্ট করে যা জানা ছিল সবই বলেছি। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এতে সন্তুষ্ট হয়েছেন। ওই লোকটি মিথ্যাবাদী। আমিও তার প্রতারণার শিকার। আমি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিব। এ বিষয়ে আমার আর বলার কিছু নাই।

তিনি বলেন, ওই প্রতারক নিজেকে আমার প্রতিষ্ঠানের আইন উপদেষ্টা পরিচয় দিতো। সে কখনি আমার প্রতিষ্ঠানের আইন উপদেষ্টা ছিল না। কেউ আমার সাথে যদি ছবি তোলে পরবর্তী সময়ে সে যদি প্রতারণার সাথে জড়িত থাকে ‑ তাহলে আমার করার কি আছে। আমি তারা দ্বারা কিভাবে এবং কী পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তার সবকিছু গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে দিয়েছি।

এদিকে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ী পরিচয় দেয়া মুসা বিন শমসের নিজেকে প্রিন্স মুসা নামেও পরিচয় দেন। তিনি নানা সময় বেশ কয়েকজন কথিত দেহরক্ষী নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছেন। তবে তিনি ডিবি কার্যালয়ে আসেন স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে। খয়েরি রঙের সাদামাটা একটি প্রাইভেটকারে করে আসা মুসা পরেছিলেন কালো রঙের স্যুট। প্রাইভেট কারে কয়েকটি জায়গায় অন্য গাড়ি বা অন্য কিছুর আঁচড়, আঘাতও দেখা গেছে। সেগুলোও মেরামত করা হয়নি।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে ঢোকার পর মুসা বের হন সন্ধ্যা ৭টার দিকে।

অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার আবদুল কাদেরের সঙ্গে সংশ্নিষ্টতার অভিযোগে মুসা বিন শমসেরের কাছে তিন বিষয়ে স্পষ্ট হতে চেয়েছিলো ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। কেন দশম শ্রেণি পাস কাদেরকে মুসা তার আইন উপদেষ্টা নিয়োগ দিলেন, কেন এই প্রতারককে ২০ কোটি টাকার চেক দিলেন এবং কাদেরের সঙ্গে মুসার আর কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে।

গত রোববার মুসার ছেলে আইনজীবী জুবি মুসা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, কাদেরের ঘটনায় তার বাবা ‘ভিকটিম’, নাকি এই চক্রের সঙ্গে সন্দেহভাজনভাবে জড়িত।

আরও পড়ুন: দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে হবে প্রিন্স মুসার জিজ্ঞাসাবাদ

প্রসঙ্গত, গ্রেপ্তার আবদুল কাদের ধনকুবের মুসা বিন শমসেরের আইন উপদেষ্টা দাবি করতেন। কাদেরের কাছে মুসা বিন শমসেরের প্রতিষ্ঠানের চুক্তিপত্রসহ বিভিন্ন নথি পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ৭ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের বাসা থেকে কাদেরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এ সময় কাদেরের দ্বিতীয় স্ত্রী ও সততা প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান শারমিন চৌধুরী ছোঁয়া, অফিস ম্যানেজার শহিদুল আলম ও অফিস সহায়ক আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন