ঢাকা ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮

অবশেষে সেই কবিরাজকে আটক করেছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কেরানীগঞ্জ
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১৮:১৬:৪৪
অবশেষে সেই কবিরাজকে আটক করেছে পুলিশ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে নবজাতক শিশুকে ভুল চিকিৎসা দেয়ার দায়ে ধীমান সরকার নামে এক কবিরাজকে আটক করেছে পুলিশ। 

এরই মধ্যে শিশুটির একটি পা অস্ত্রোপচার করে কেটে ফেলতে হয়েছে। তবে, শিশুটি সুস্থ আছে বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা। 

জন্মের পর নবজাতক অনিক বেশি কান্নার চিকিৎসা করতে থাকায় কবিরাজ ধীমানের বাসায় যান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ মধ্যপাড়া এলাকার আবুল বাসার। 

বাসার জানান, ধীমান ঝাড়-ফুক করে সুবিধা না করতে পেরে শিশুটির পায়ে ট্রাইজন নামে একটি ইনজেকশন দেয়। এতে শিশুটির পা ফুলে যায়। 

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে চাকরির নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার তিন

অবস্থা খারাপ হলে শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

সেখানকার চিকিৎসক জানান, শিশু অনিকের ডান পায়ের হাড়ে পচন ধরেছে। এখন তার পা কাটা ছাড়া কোন উপায় নেই। অবশেষে গত ২৬ সেপ্টেম্বর শিশুটির পা কেটে ফেলা হয়।

অবস্থার অবনতি হওয়ায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে  ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে নেওয়া হয়। 

এনিয়ে গ্রাম্য সালিশ বসে। শালিশে  শিশুটির বাবা-মাকে মাত্র এক লাখ টাকা দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু ওই শালিস মানেনি শিশুটির অন্য স্বজনেরা। এলাকার লোকজনও কথিত কবিরাজ ধিমানকে আটকের দাবি তোলেন। 

এনিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানান, শিশুটি অপচিকিৎসার শিকার। ওই হাতুড়ে চিকিৎসকের শাস্তি হওয়া উচিত। 

এলাকার লোকজনের দাবির মুখে গত ১০ অক্টোবর আটক হয় কবিরাজ ধিমান। অবশ্য এর আগে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন আগে থেকেই শিশুটির পায়ে ক্ষত ছিল। 

এনিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন কবির জানান, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। পা কেটে ফেলার পার শিশুটি তাঁর বাড়িতে চিকিৎসকের তত্বাবধানে আছে। 


একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন