ঢাকা ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮

বিতর্কিত পেনাল্টি: বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১৯:৪১:৪১ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১৯:৪৭:৪৭
বিতর্কিত পেনাল্টি: বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ১৬ বছর পর ফাইনালে ওঠার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। ফাইনাল খেলার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত অধরাই থাকলো। ম্যাচের ৮৭ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। শেষদিকে বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে গোল পেয়ে ম্যাচ ড্র হয় ১-১ গোলে।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) মালদ্বীপ আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে ওঠে দু’দল। অবশ্য বল দখলের লড়াইয়ে অনেক এগিয়ে থাকা নেপাল প্রথমার্ধে ১-০ গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। ম্যাচে ৬৫ শতাংশ বল দখলে রাখে নেপাল।

ম্যাচের ৯ মিনিটেই প্রথম গোলটা পেয়ে যায় বাংলাদেশ। জামাল ভুঁইয়ার ফ্রি-কিকটা নেপালের একজনের গায়ে লেগে খানিকটা দিক বদলে ফেলে। এই ম্যাচে সুযোগ পেয়ে যাওয়া সুমন রেজা ছিলেন তক্কে তক্কে, বক্সে আনমার্কড অবস্থায় হেড করে গোল দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন বল।

১৫ মিনিটে দারুণ একটা সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন রোহিত চান্দ। বক্সের ভেতর ফাঁকায় পেয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু কয়েক গজ দূর থেকে পোস্টের ওপর মেরে দেন।

২১ মিনিটে দীনেশ রাজবংশীকে কাটিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েছিলেন সুমন রেজা। ইব্রাহিম ছিলেন দারুণ পজিশনে, কিন্তু সুমন নিজেই মারতে গেলেন। বাঁ পায়ের শট চলে গেল সোজাসুজি গোলরক্ষক বরাবর, সুযোগ হারালো বাংলাদেশ। ২৭ মিনিটে আরেকটি দারুণ প্রতি আক্রমণের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল শোধ করার আরেকটি দুর্দান্ত সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। কিন্তু আয়ুশের হেড একটুর জন্য চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে।

আরও পড়ুন: লঙ্কানদের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু টাইগারদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

৭৮ মিনিটে অঘটন ঘটে যায় বাংলাদেশের। বক্স থেকে বেরিয়ে এসে বলে হাত লাগিয়ে দেন জিকো। লাল কার্ড দেখিয়ে দেন রেফারি। দশ জনের দল হয়ে যায় বাংলাদেশ, ব্রুজোন এরপর নামান রানা আর ফাহাদকে।

৮৭ মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে যায় নেপাল। সেট পিসের সময় সাদ উদ্দিন ফাউল করে বসেন, রেফারি বাঁশি বাজান পেনাল্টির। যদিও সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরাও অনেকক্ষণ প্রতিবাদ করেছেন। তবে অঞ্জন বিস্তা ভুল করেননি, ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে সমতা ফিরিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গের জন্য সেটাই ছিল যথেষ্ট।

সর্বশেষ ২০০৫ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাফের ফাইনালে খেলেছিলো বাংলাদেশ। সে সময় নেপালের বিপক্ষেও দারুণ রেকর্ড ছিল তারিক রায়হানদের। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৫ পর্যন্ত সাফের প্রতিটি ম্যাচে নেপালকে হারায় বাংলাদেশ। কিন্তু এরপর নেপালকে আর হারাতে পারেনি তারা। 

সাফের ১৩তম আসরের এই ম্যাচের আগে সর্বশেষ চার ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে একটি ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। নেপালের জয়ও ছিল একটি, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়। এবার নেপাল বাধা পেরিয়ে যাওয়ার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ সময়ে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় পুড়তে হলো জামাল ভূঁইয়াদের।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন