ঢাকা ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সদর্পে ফেরার গল্প তৈরি করলো ‘বড় সর্দার বাড়ি’

ঝুমুর বারী, একাত্তর
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২১ ১৪:২৪:৩৩ আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২১ ১৪:৪৪:০৯
সদর্পে ফেরার গল্প তৈরি করলো ‘বড় সর্দার বাড়ি’

৬০০ বছরের পুরোনো স্মৃতি নিয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে নারায়নগঞ্জের বড় সর্দারবাড়ি। ইতিহাসে হারিয়ে যাওয়া মোঘল আর ঔপনিবেশিক স্বপ্ন, যা শেষ হয়েছিলো জামদানির সুতার ভাজে তা এখনো তরতাজা এই বড় সর্দার বাড়িতে।

কারণ, ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুজাতিক কোম্পানি ইয়াংওয়ান সর্দার বাড়ির পরতে পরতে এনেছে প্রাণের ছোঁয়া। পুরোন জীবনে নতুন করে বুনেছে স্বপ্ন।

পুকুর ঘাট ঘেঁষে তিন দিকে দোতালা তিন ভবন। যার ছোট ছোট কামরায় জামদানির খট খট শব্দ হতো একটা সময়ে।

সেই শাড়ি দূর-দূরান্তের পাইকাররা নিয়ে যেতেন দেশ-বিদেশে বিক্রির জন্য। এটি মোঘল আমলের গল্প। সময়টা ১৮৯২।

এরপর ইট সুরকির অলঙ্কারিক কাজে সিরামিকের জমকালো সাজ আনে ঔপনিবেশিক স্থাপত্য। ১৯০২ সালে তিন ভবনের সামনে দাড়িয়ে যায় নতুন আরেক আবাসিক ভবন। পুরোটারই নামহয় বড় সর্দার বাড়ি।

ইতিহাস বলছে, ঐশ্বর্যকান্ত সাহা সরদার নামে তৎকালীন এক ধনী ব্যবসায়ী এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। পরে বারো ভূঁইয়াদের প্রধান ও সম্রাট ঈশা খাঁ এই বাড়ির দখল নেন।  

সুলতানি আমলের পথ ধরে মোঘল আর ব্রিটিশ রাজত্বের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক এই বাড়িটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে বাংলার তৎকালীন রাজধানী সোনারগাঁয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে।

বড় সর্দার বাড়িটি কয়েক বছর আগেও বিলুপ্তির পথে ছিলো। সংস্কারের অভাবে বাড়িটি ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছিলো। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল ভবনটির ছাদসহ বিভিন্ন অংশ।

আরও পড়ুন: কাওরানবাজারে মালবাহী ট্রেনের তিন বগি লাইনচ্যুত

এই অবস্থায়, ২০১২ সালে ‘ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন’ নামে কোরিয়ার একটি কোম্পানি বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের কাজে আগ্রহ প্রকাশ করে। ২০১২ সালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে বাড়িটির আদিরূপ ফিরিয়ে আনার চুক্তি করে তারা।

বাড়িটির সংস্কার কাজে মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে টাইলস এবং মার্বেল পাথর। এছাড়াও চীনা মাটির প্লেট, চিটাগুড় ও তেঁতুলের বীচির প্রলেপ ব্যবহার করা হয়েছে বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে।

সংস্করণ কাজে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়, যার পুরোটা দিয়েছে ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন। এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান স্যার আবু সাইদ এম আহম্মেদ বাড়িটির আদিরূপ ফিরিয়ে আনতে স্থপতি হিসেবে কাজ করেছেন।

বাড়িটির মেরামত করার জন্য ১৫০ জন সুদক্ষ রাজমিস্ত্রীকে আনা হয়েছিল নওগাঁ ও পাহাড়পুর থেকে। তাদেরই সুদক্ষ হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় বাড়িটি যেন ফিরে পেয়েছে পুরনো সেই রূপ।

ইয়াংওয়ানের চেয়ারম্যান বলেন, ‘সর্দার বাড়ির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য আমাদেরকে সত্যিই খুব মুগ্ধ করেছে। এ কারণেই আমরা ইতিহাসের সাক্ষী হতে সংস্কার কাজে অনুদান দিয়ে বাড়ির আদিরূপ ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি’।

বড় সর্দার বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচশ’ গজ দূরে পানামের ঘরগুলো অবশ্য এখনো পড়ে আছে অনেকটা অবহেলায়।


একাত্তর/টিএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন