ঢাকা ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের গণঅনশন ও বিক্ষোভ

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২১ ১০:৫৮:১৪ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২১ ১৬:১২:৫৯
সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের গণঅনশন ও বিক্ষোভ

দেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন ও সাম্প্রদায়িক মহলের চক্রান্ত প্রতিরোধে সারাদেশে গণ অনশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠন। 

সারাদেশ থেকে পাঠানো একাত্তরের প্রতিনিধি/সংবাদদাতাদের প্রতিবেদন-

নোয়াখালী থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি

দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে গণ অনশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

সকাল ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বেলা ১২টা পর্যন্ত চৌমুহনী শ্রী শ্রী রাধা মাধব জিউর মন্দিরে পালন করা হবে। 

সকালে ইসকনসহ বিভিন্ন মন্দির থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচিতে চৌমুহনীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও সনাতন ধর্মের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

বেলা ১২টায় সনাতন ধর্মের এ গন অনশন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরন ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খোরশেদ আলম খান।

ফেনী থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কারীদের বিরুদ্ধে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়ন ও সাম্প্রদায়িক চক্রান্তের প্রতিবাদে সর্বস্তরের জনগণের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের আহ্বানে ফেনী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণ অনশন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

আয়োজকরা জানান, সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয়ে অনুষ্ঠান দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে। এ সময় বক্তারা সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধ করে হিন্দু-বৌদ্ধ এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও বিকাশের সুযোগ দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান।


বাগেরহাট থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা‌দে‌শে সংঘ‌টিত সাম্প্রদা‌য়িক হামলার প্র‌তিবা‌দে বা‌গেরহা‌টে গণ অনশন ও গণ অবস্থান কর্মসূ‌চি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূ‌চির অংশ হি‌সে‌বে শ‌নিবার সকাল ৯টায় বা‌গেরহাট শহ‌রের শালতলা শ্রীশ্রী হ‌রিসভা ম‌ন্দি‌রের সাম‌নে এই  গণ-অণশনের আ‌য়োজন করা হয়। ‌

বা‌গেরহাট জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য প‌রিষদ ও জেলা পূজা উদযাপন প‌রিষদ যৌথভা‌বে এই  গণ অনশন কর্মসূ‌চি পালন ক‌রে। কর্মসূ‌চি চলাকা‌লে জেলার বি‌ভিন্ন উপ‌জেলা থে‌কে  সংগঠ‌নের  নেতাকমীরা অংশ গ্রহণ ক‌রেন।  

সভায় বক্তারা সম্প্র‌তি হিন্দু‌দের বা‌ড়িঘর,পূজা মণ্ডপ  ভাঙচুর, অ‌গ্নিসং‌যোগ, হত্যা, নির্যাতন ও লুটপা‌টের প্র‌তিবাদ জানান। এসব ঘটনা তদ‌ন্তে  ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান বক্তারা বলেন, জ‌ড়িত‌দের  দ্রুত গ্রেপ্তার ক‌রে দৃষ্টান্তমূল শান্তি নি‌শ্চিত কর‌তে হবে। 

কর্মসূ‌চি  চলাকা‌লে বক্তব্য রা‌খেন বা‌গেরহাট জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য প‌রিষ‌দের সভাপ‌তি শিবুপ্রসাদ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড‌ভো‌কেট মিলন কুমার ব্যানা‌র্জি, জেলা পূজা উদযাপন প‌রিষ‌দের সভাপ‌তি অ‌মিত রায় ও সাধারণ সম্পাদক অব‌নিশ চক্রবর্তী সোনা প্রমুখ।


জামালপুর থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি

দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে জামালপুরে গণ অনশন, গণ অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসুচি পালিত হচ্ছে। শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে সকাল ছয়টা থেকে কর্মসূচি শুরু হয়েছে চলবে বেলা ১২টা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জামালপুর জেলা শাখা আয়োজিত গণ অনশনে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

অনশন চলাকালে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্যিস্টান ঐক্য পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত পণ্ডিত, সাধারণ সম্পাদক রমেন বণিক, যুব ঐক্য পরিষদের আহবায়ক রিপন দাম ও যুবলীগ নেতা রাতুল সাহা।

এ সময় বক্তারা সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। 


মুন্সীগঞ্জ থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে সারাদেশের মতো মুন্সীগঞ্জেও অনশন কর্মসূচি পালন করছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।  

শনিবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাদদেশে এই কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটি। এসময় দোষিদের বিচারের দাবিতে শ্লোগান তুলে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। এই কর্মসূচিতে স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করে একাত্মতা প্রকাশ করেন।  

আন্দোলনে অংশ গ্রহণকারীরা, সম্প্রতি নির্বিচারে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের হত্যা, তাদের ঘর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

জয়পুরহাট থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি

দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে জয়পুহাটের শ্রী শ্রী কালি মন্দিরে সোনার পট্টিতে গণ অনশন ও বিক্ষোভ কর্মসুচি পালিত হচ্ছে। সকাল সাতটা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে বেলা ১২টা পর্যন্ত।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক রতন কুমার খা,  সদস্য সচিব স্বপন তালুকদার,পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. হৃষিকেশ সরকার, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক সমুন কুমার সাহা প্রমুখ।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও সনাতন ধর্মের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। 


লক্ষ্মীপুর থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি

দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্গা পূজায় প্রতিমা ভাঙচুর ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে গণ অনশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ছয়টা থেকে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণ অনশন ও অবস্থান করছেন জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইসকনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট রতন লাল ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেবনাথ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শঙ্কর মজুমদার, যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শিমুল সাহা, ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ সখাবেশ বলরাম গোপাল দাস ব্রক্ষ্মচারী ও সাধারণ সম্পাদক রাজন সাহা।

বক্তারা বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ এ জাতীয় আইনের আওতায় সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে যেসব মন্দিরে যা যা ক্ষতি হয়েছে, এটি পুনরায় সরকারকে নির্মাণ করে দিতে হবে। 

নেত্রকোনা থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাম্প্রদায়িক সহিংসাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে নেত্রকোণাতেও গণ অনশন, গণ অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে নেত্রকোণা জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

নেত্রকোণা জেলার পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল ছয়টা থেকে শুরু হওয়া কর্মসুচি চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ।

কর্মসূচি চলাকালে নেত্রকোণা জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি অ্যাড. সিধাংশু বিকাশ আচার্য্য চৌধুরী সভাপত্বিতে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

বক্তারা এ সময় সারাদেশের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও লুটতরাজ ও সর্বশেষ রংপুরের হামলার তীব্র নিন্দা জানান। সেই সাথে অবিলম্বে দোষিদের দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তারা। এছাড়া গণ অনশন, গণ অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছে নেত্রকোণা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, রামকৃষ্ণ মিশন, চিত্তধাম মালনী আশ্রমসহ জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

রংপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হিন্দুদের ওপর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে গণ অনশন, গণ অবস্থান ও বি‌ক্ষোভ কর্মসূ‌চি পালন করেছে বাংলা‌দেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রংপুর শাখা।

শনিবার সকালে রংপুরে ডিসির মোরস্থ বঙ্গবন্ধু ম্যুড়ালের সামনে সকাল ৯টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত চলে এই কর্মসূচি।এ কর্মসূ‌চির স‌ঙ্গে সংহ‌তি প্রকাশ ক‌রে‌ছে বাংলা‌দেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর পূজা উদযাপন প‌রিষদ।

দুর্গাপূজার মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা শহরের একটি মন্দিরে কুরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে কয়েকটি মন্দিরে হামলা-ভাংচুর চালানো হয়।

এরপর রংপুরসহ কয়েকটি জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয় হিন্দুদের উপাসনালয়, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গত ১৭ ই অক্টোবর পীরগন্জে  মাঝি পাড়ায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে এতে মোট ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৩৭ জনকে তিন দিনের রিমান্ড এনে জিজ্ঞেসাবাদ চলছে। 

বরিশাল থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিসংযোগ আর খুনের ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ ও মানবন্ধন হয়েছে বরিশালে। 

শনিবার সকাল থেকে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে মঞ্চ করে হিন্দু বৌদ্ধ-খৃষ্টান-ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে নগরী ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন মন্দির এবং সনাতন ধর্মালম্বীরা অংশ নেয়।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, এটা পরিস্কার যে কুমিল্লার ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক ইন্ধন জড়িত। আমাদের এখন দেখার বিষয় ইকবালের পর নেপথ্যের কুশীলবরা গ্রেপ্তার হচ্ছে কিনা। নাকি অতীতের ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হামলার ন্যায় লোক দেখানো মামলা করে অপরাধীদের আইনের ফাঁক গলে বেড়িয়ে আসার সুযোগ তৈরি করে দিবে। এখনে আয়োজক সংগঠনের নেতারা ছাড়াও একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদ, গণফোরামসহ অন্য নেতারা।


পাবনা থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি

পাবনায় হিন্দু মহাজোটের আয়োজনে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে বাসভবন হামলা লুটপাট ও হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। 

শনিবার (২৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের আব্দুল হামিদ সড়কের প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে শ্রী শ্রী জয়কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহর প্রর্দক্ষিন করে। মানববন্ধনে বক্তারা অতিবিলম্বে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরে হামলা, মন্দিরে হামলার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করে দেশে সম্প্রীতির বন্ধন রক্ষার জন্য রাষ্ট্র প্রধানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষারকারীদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

মানববন্ধনে জেলা হিন্দু মহাজোট, ছাত্র মহাজোট, যুব মহাজোটের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করেন।

সিলেটে থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সকাল ছয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণ অনশন কর্মসূচি পালণ করেছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। 

এসময় পরিষদের নেতারা বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা এদেশের প্রতিটি সংকট জান বাজি রেখে অবদান রেখেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামেও তাদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ, শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নিজ দেশে আজ তারা পরাধীন। এটা সাংবিধানিক অধিকার এবং মৌলিক মানবাধিকার এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর জন্য রাষ্ট্র দায় এড়াতে পারে না। তারা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জীবনের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে আরও সচেষ্ট হওয়ার আহবান জানান।

রাঙ্গামাটি থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি

বাংলাদেশ থেকে উগ্র মৌলবাদ বন্ধ ও সারাদেশে মন্দির বাড়ি ঘরে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে রাঙ্গামাটিতে গণ অবস্থান, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার সকালে রাঙ্গামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গণ অনশনের নেতৃত্বদেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রাঙ্গামাটির সভাপতি দীপন ঘোষ।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সহ সভাপতি কুশৌল চৌধুরী, ইন্দ্র দত্ত তালুকদার, অরূপ মুৎসুদ্দি প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িত প্রকৃত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান এবং সাম্প্রদায়িক মহলের সর্বনাশা চক্রান্ত প্রতিরোধে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

পরে রাঙ্গামাটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মারি স্টেডিয়াম এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। 

কর্মসূচিতে সনাতন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।