ঢাকা ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

গণঅনশন ও অবস্থান থেকে আট দফা বাস্তবায়নের দাবি

সাজিদ সরকার, একাত্তর
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২১ ১৮:০৩:৫১ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২১ ২১:০৯:৩৯
গণঅনশন ও অবস্থান থেকে আট দফা বাস্তবায়নের দাবি

দেশের বিভিন্ন জেলায় পূজামণ্ডপসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মন্দিরে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে অনশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

কর্মসূচিতে সংহতি জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ সময় ১১ দফা দাবি জানিয়ে বলা হয়, দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনে নামবে ঐক্য পরিষদ।

সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার (২৩ অক্টোবর) ভোর ছয়টা থেকে গণঅনশন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

সংগঠনটির সাথে পূজা উদযাপন পরিষদ, ইসকনসহ শতাধিক ধর্মীয় সংগঠনও অংশ নেয় গণঅনশনে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলে।

অবস্থান-অনশন করার পর প্রায় একঘণ্টা শাহবাগ মোড় আটকে রেখে, বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে তাদের কর্মসূচি শেষ হয়। মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ করা হয়।

গণ-অবস্থানের সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধে সব রাজনৈতিক দলসহ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।

তারা বলেন, এবারের পূজায় যে ঘটনা ঘটেছে, এর পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, তা আটকানো উচিত। প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সাম্প্রদায়িক কর্মচারীদের নিষ্ক্রিয়তা চিহ্নিত করে, তদন্ত করে বিচার করার দাবিও জানান তারা।

সমাবেশে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু বলেন, হিন্দুদের ওপর যারা এই আক্রমণ চালিয়েছে, তারা ধর্মান্ধ, জঙ্গি, সন্ত্রাসী এবং এই আক্রমণ ছিলো পরিকল্পিত।

এটা তাৎক্ষণিক কোনও উত্তেজনার ঘটনা নয়। তারা হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগাতে চেয়েছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি।

গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, দেশজুড়ে যে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা হয়েছে তাতে আমরা সংক্ষুব্ধ, বিক্ষুব্ধ। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে ব্যবসা করে।

যারা সহিংসতা চালাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা না গেলে অসাম্প্রদায়িক দেশ তৈরি করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।

গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিন্দ চন্দ্র ভৌমিক।

পূজা উদযাপন পরিষদ ঘোষিত আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে সারাদেশে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ‘চল চল ঢাকায় চল’ স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয় কর্মসূচিতে।

এই আট দফা দাবি হলো-

১) শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।

২) সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সব মন্দির, বাড়িঘর পুনঃনির্মাণ, গৃহহীনদের পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান ছাড়াও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা ও নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা প্রদান বিকল্পে প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের একজনকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করত হবে।

৩) নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক হামলাকারী ও তাদের পেছনে থাকা চক্রান্তকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিশেষ ক্ষমতা আইন, সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় এনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৪) সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের রোধে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে যারা দায়িত্ব পালনে গাফলতি ও অবহেলা করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৫) সামাজিক মাধ্যম ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছাড়াও সাম্প্রদায়িক উসকানি দিচ্ছে যারা, তাদের চিহ্নিত করে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা ঠেকাতেই মুহিবুল্লাহকে হত্যা

৬) প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় যেসব জনপ্রতিনিধি এগিয়ে আসেননি, তাদেরও চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৭) ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত সংগঠিত সাম্প্রদায়িক ঘটনাবলি তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনায় গঠিত সাহাবুদ্দিন কমিশনের সুপারিশ সম্বলিত রিপোর্ট অনতিবিলম্বে প্রকাশ ও এর সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৮) ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের দ্রুত বাস্তবায়নসহ ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে প্রদত্ত অঙ্গিকার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন