ঢাকা ২৯ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

কাগজে থাকলেও বহু হাসপাতালেই নেই এনসিডি কর্ণার

নয়ন আদিত্য, একাত্তর
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২১ ২১:০৪:৩০ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২১ ২১:০৪:৩০
কাগজে থাকলেও বহু হাসপাতালেই নেই এনসিডি কর্ণার

সরকারি খাতায় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ২০০টি উপজেলা হাসপাতালে নন কমিউনিক্যাবল ডিজিজ বা এনসিডি কর্ণার হয়েছে।

কিন্তু সরেজমিন ঘুরে দেশের ৬৫ ভাগ হাসপাতালেই এর কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অথচ এর পেছনে খরচ হয়ে গেছে ৪শ কোটি টাকা। খরচের অপেক্ষায় আছে আরো ৭শ’ কোটি।

ষাট বছর বয়সী মিনারা খাতুন। অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিকের কারণে পায়ের ক্ষতস্থানে ছড়িয়েছে গ্যাংরিন। অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে তিনি ভর্তি হয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। আছে উচ্চ রক্তচাপও।

এমন রোগীদের জন্য সেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বা এনসিডি কর্ণার থাকার কথা। যেখান থেকে তার বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পাবার কথা। কিন্তু মিনারা বেগম সেটি জানেন না।

তার এমন অনেক রোগীর দেখা মিললো এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিক যাদের প্রাণ শক্তি শুষে নিচ্ছে।

দেশের ৬০ শতাংশ মানুষের অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণ এমন অসংক্রামক ব্যাধি। প্রত্যন্ত এলাকায় রোগগুলোর প্রভাব ঠেকাতে ২০১৭ সালে ৫ বছর মেয়াদী একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার।

প্রকল্প ব্যায় ১,১০০ কোটি টাকা। যা দিয়ে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে একটি করে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র খুলে সেখানে এই রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার কথা।

কিন্তু, একাত্তরের অনুসন্ধান বলছে সেই টাকার পুরোটা খরচ হলেও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হয়েছে মাত্র কয়েকটি।

কাগজে কলমে গাজীপুরের চার উপজেলায় আছে এনসিডি কর্ণার। টাকা বরাদ্দ এবং খরচ শেষ কিন্তু শ্রীপুরে গিয়ে কিছুই পাওয়া গেলো না।

এবারের গন্তব্য সিরাজগঞ্জ। জেলার আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনসিডি কর্ণার আছে। যার একটি রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। যা ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবেই সামনে এসেছে।

কিন্তু পাশের উপজেলায় তাড়াশে নেই এনসিডি কর্ণারের অস্তিত্ব। এই জেলার অন্য এনসিডি কর্ণারগুলো সাইনবোর্ড সর্বস্ব।

পরের গন্তব্য নাটোর। সরকারি নথি বলছে, নাটোরের পাঁচটি উপজেলায় এনসিডি কর্ণার হয়েছে। মানুষ সেবাও পাচ্ছে। যার একটি বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু চিকিৎসাকর্মীদেরই সেই তথ্য অজানা।

আর, লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছে, সেখানে সেই ব্যবস্থা নেই। যদিও আবাসিক চিকিৎসক জানান তাদের সেখানে সচল আছে কর্ণারটি।

সেটি দেখতে চাইলে সাইনবোর্ড লাগানো তালাবদ্ধ এক রুমের সামনে নিয়ে যান। যে কক্ষটিতে ধুলোর আস্তরণ আর পরিত্যক্ত জিনিসপত্রের ভাগাড় হয়ে আছে।

মোট ৪২টি জেলার ৬৬টি সম্পূর্ণ ও ১৩৪টি প্রস্তাবিত এনডিসি কর্ণারের তালিকাটি ধরে ধরে অনুসন্ধান চালায় একাত্তর।

আরও পড়ুন: ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা দেশেই মিলছে, তবে…

যার মধ্যে ১১২টি উপজেলার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৬৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্ণারের কোন অস্তিত্বই নেই। ১৬টি সাইনবোর্ড সর্বস্ব।

আর যেগুলোতে আছে সেখানেও রয়েছে ডাক্তার, নার্স, ওষুধ সরবরাহ পর্যাপ্ত নেই। এসব নিয়ে প্রশ্ন করলে নিজের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করলেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইন ডিরেক্টর।

একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন