ঢাকা ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

বাংলাদেশের হারের আরেক খলনায়ক সাইফ!

নাজমুল রানা, একাত্তর
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১৩:৪৭:০২ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১৩:৪৮:০৪
বাংলাদেশের হারের আরেক খলনায়ক সাইফ!

আবারও খেই হারানো বাংলাদেশকে ডোবালেন পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। খেলার ১৫তম ওভারে বল করতে এসে দিলেন ২২ রান।

আর, তাতেই ডুবতে বসা বাংলাদেশের তরী একেবারেই তলিয়ে গেলো। অবশ্য এবারই প্রথম নয়, স্নায়ুচাপে সাউথ আফ্রিকায় ২০১৭ সালেও খেই হারিয়ে ছিলেন এই সাইফ। ডেভিড মিলার তাকে মেরেছিল টানা পাঁচটা ছয়।

বাংলাদেশের জয়ের বন্দরে তরী ভেড়ানোটা একটু কঠিনই ছিলো। তবে সেই কঠিন পথটাকে আরও কঠিন করে দিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ক্যাপ্টেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ যেমন ভুল করে ভুল সময়ে সাইফউদ্দিনকে বোলিংয়ে এনেছিলেন, তেমনই তরী ডোবানোয় পারদর্শিতা দেখিয়েছেন সাইফ।

শারজাহর ১৫তম ওভার যেনো ২০১৭ সালকেই নিয়ে এলো সামনে। সেবারও সাইফউদ্দিন ১৮তম ওভারে এসে খেই হারিয়েছিলেন।

সাউথ আফ্রিকার মাটিতে দিয়েছিলেন একে একে পাঁচটা ছয়। সবমিলিয়ে ৩১ রান দিয়েছিলেন সাইফ। তাকে পিটিয়ে তুলোধুনো করেছিলেন মিলার। আর সেই মিলারের ব্যাটে ভর করেই বড় ব্যবধানে বাংলাদেশকে হারিয়েছিলো প্রোটিয়ারা।

এবারও সেই সাইফ, সেই টার্নিং মোমেন্ট, সেই বাঁচা মরার লড়াই। আবারও খেই হারালেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার, সাউথ আফ্রিকার মতোই মরুতে করলেন ছয় দিয়ে ওভার শুরু।

তারপর আর তালে ফেরা হয়নি। সাইফের দেওয়া এক ওভারে ২২ রানেই হারের বন্দরে পৌঁছে যায় টিম টাইগার্স।

সাকিবের জোড়া আঘাতে যেখানে ম্যাচটা ঝুঁকে ছিলো বাংলার দিকে। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের পরও যখন আশার আলো জাগছিলো টাইগার শিবিরে। ঠিক তখনই স্নায়ু চাপ সামলাতে না পারা সাইফ দলের বুকে ছুরি মারলেন।

প্রতিশ্রুতির বুলি শোনানো আর মাঠে সিংহ শেয়াল খুন করার স্বপ্ন দেখানো বাংলার তরুণরা, চাপের মাঝে থেকেও হাল ধরবেন কবে।

কবে সাইফরা বুঝবেন, প্রথব বলে ছক্কা খাওয়া মানেই সবশেষ হয়ে যাওয়া নয়, যেখানে পড়ে যাওয়ার শুরু, সেখানেই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখতে হয়।

ব্যাটিংয়ের পজিশান নিয়ে আফসোসে পোড়া সাইফউদ্দিনরা বুঝবেন কবে, কেবল আবেগের খতিয়ান পাঠ করলেই নিজের জায়গা পোক্ত হয় না। ভালো খেলেই, টার্নিং মোমেনন্টে ম্যাচটা ঘুরিয়ে দিয়ে নিজেকেই চালকের আসনে বসতে হয়।

উদীয়মানের তকমা নিয়ে আর কতোদিন। মেঘে মেঘে তো গড়ালো অনেক। আগেও তো আরো একটা বিশ্বকাপ হয়েছে।

এবার দায়িত্ব না নিলে, দায়িত্বটা বাংলার তরুণরা নেবেন কবে। তাদের পায়ের নীচের মাটি কবে শক্ত হবে, নাকি বিকল্প নেই সেই কোটাতেই ওরা আজীবন খেলে যাবে!

 

একাত্তর/আরবিএস 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন