ঢাকা ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে হামলায় জড়িতরা বিএনপি ঘনিষ্ঠ

নাজনীন মুন্নী ও এনামুল হক, কুমিল্লা থেকে
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১৯:৩৪:৩২ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২১ ২১:৪১:৪২
কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে হামলায় জড়িতরা বিএনপি ঘনিষ্ঠ

কুমিল্লায় পূজামন্ডপে কোরআন শরিফ রেখে হামলার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জড়িতদের সাথে বিএনপির সম্পৃক্ততা মিলেছে।

কোরআন রাখা ইকবালের সহযোগী একরাম বিএনপির সক্রিয় কর্মী, তার সাথে আছে খাদেম ফয়সাল। ফয়সালের সাথে জড়িত হাফেজ হুমায়ুন জামায়েত কর্মী বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

১৩ই অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টা। নানুয়াদীঘির মন্দিরে শুরু হয় প্রথম ভাঙচুর। যার শুরু হনুমানের প্রতিমার কাছে কোরআন শরিফ রাখা নিয়ে। 

এর আগেই সকাল সাতটায় ট্রিপল নাইনে ফোন দিয়ে মণ্ডপে পুলিশকে ডেকে নিয়ে আসে যে, তার নাম একরাম। সেই প্রথম কোরআন রাখার দৃশ্য দেখেছে বলে আগেই জানিয়েছিলো।

গদা হাতে হেটে যাওয়া ইকবাল, যে কিনা মন্দিরে কোরআন রেখেছিলো বলে প্রাথমিকভাবে বলা হচ্ছে, তার আশেপাশেই ছিলো একরাম।

এখানেই শেষ নয়, এই ইকরামই পরদিন জনতাকে উত্তেজিত করে এবং সরাসরি অংশ নেয় ভাঙচুরে। একাত্তর খুঁজে পেয়েছে সেই ছবি। কে এই একরাম অনুসন্ধান চলে সেই পথ ধরে।

একরামের প্রকৃত নাম রেজাউল করিম একরাম। স্থানীয় সূত্র ও তার ফেসবুক প্রোফাইল বলছে বিএনপির রাজনীতির সাথে সে যুক্ত।

তার ফেসবুকে পেজে প্রকাশিত বেশিরভাগ ছবিই বিএনপি নেত্রী খালেদার মুক্তি, তারেক রহমানের পোষ্টার, সাথে বিএনপির নানা কর্মসূচি।

একরাম সবচেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ ইউসুফ মোল্লা টিপুর সাথে, যিনি কুমিল্লা মহানগর যুবদলের বর্তমান সেক্রেটারি।

যুবদলের আরেক নেতা মহিউদ্দিন, যার নামে মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তবে এখনো পলাতক এই যুবদল নেতা। 

কিছুদিন আগেই যুবদল নেতা অসুস্থ আমির হোসেনকে দেখতে তার বাড়ি গিয়েছেন টিপু। সাথে ছিলো একরাম।

শুধুমাত্র যুবদল সেক্রেটারি নয়। একরামকে পাওয়া গেছে মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর নির্বাচনী প্রচারেও। সামাজিক মাধ্যমেই কেবল নয় প্রকাশ্যে সেই প্রচারে একরাম ছিলো মেয়রের পাশেই।

খাদেম ফয়সাল এবং হাফেজ হুমায়ুন, যাদের দেখা গেছে মসজিদের বারান্দায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তারাই ইকবালকে সরবরাহ করেছেন কোরআন শরীফ।

সেই খাদেম ফয়সাল এবং একরামের বন্ধুত্ব পাওয়া গেছে ফেসবুকে। যে মসজিদ থেকে নেয়া হয় কোরআন, ফয়সালের বাড়ি তার পাশেই।

আর তার বাড়িটিই তিন মাস আগে ভাড়া নেয় খাদেম হুমায়ুন। তাকে ১০-১২ জন ছেলের সাথে আলাপ করত দেখা গেছে ঘটনার দিন সকালেই। তাদের মধ্যে একজনের নাম রিফাত। যে মন্দির ভাঙ্গচুরের দিন আহত হয়েছে পুলিশের গুলিতে।



একাত্তর/টিএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন