ঢাকা ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

চায়ের দেশে এলো 'ট্যুরিস্ট বাস'

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২১ ২১:৪৫:২১
চায়ের দেশে এলো 'ট্যুরিস্ট বাস'

দুপুরের খাবারসহ মাত্র ৩৫০ টাকায় ট্যুরিস্ট বাসে করে দিনব্যাপী ঘুরে দেখা যাবে জেলার প্রধান সব দর্শনীয় স্থান। এমন ব্যতিক্রমি উদ্যোগ নিয়েছে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন। 

জেলার পর্যটন খাতকে আরো সমৃদ্ধ ও পর্যটকবান্ধব করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হয়েছে ট্যুরিস্ট বাস। এসব বাসে দলবেঁধে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরাও। অর্থ সাশ্রয়, স্বল্প সময় ও সার্বিক নিরাপত্তায় চলা এসব বাসে ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন তারা। 

কেবল দিগন্ত বিস্তারিত চা বাগান বা সবুজ টিলা নয়। মৌলভীবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলেছে স্বচ্ছ জলের মাধবপুর লেক, পাখির কলতানে মুখর হাকালুকি হাওর ও বাইক্কার বিল। শুধু কি তাই? বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য, জলপ্রপাত কী নেই এখানে? জেলার সাতটি উপজেলায়ই রয়েছে নয়নাভিরাম পর্যটন স্পট। 


লেবু বাগান, সীতেশ দেবের চিড়িয়াখানা, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, রাজনগরের জলের গ্রাম অন্তেহরি, কুলাউড়ার গগনটিলা, লাঠিটিলার সবুজে মাখা অরণ্যাঞ্চল, বড়লেখার মাধবকুণ্ড, পরীকুণ্ড জলপ্রপাতের কারণে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ এখন মৌলভীবাজার। 

এই জেলাকে আরও পর্যটকবান্ধব করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ট্যুরিস্ট বাস। জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহের বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার দুইটি বাস জেলার বড়লেখা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা সদর থেকে ছাড়ে এই ট্যুরিস্ট বাস। বাসগুলোতে বর্তমানে চালু রয়েছে দুইটি প্যাকেজ। 

প্যাকেজ-১ এর আওতায় রয়েছে চা-বাগান, গগণটিলা, মাধবপুর লেক ও হাকালুকি হাওর। জনপ্রতি ভাড়া ৩০০ টাকা। কেউ দুপুরের খাবার খেতে চাইলে একশ টাকা যোগ করে ভাড়া হবে চারশ টাকা। এ প্যাকেজের বাস প্রতিদিন সকাল ৯টায় শ্রীমঙ্গল থেকে যাত্রী নিয়ে বড়লেখা ঘুরে আসবে।


প্যাকেজ-২ এর আওতায় রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, বাইক্কারবিল। জনপ্রতি ভাড়া ৩৫০ টাকা। যারা দুপুরের খাবার খাবেন তাদের ৪৫০ টাকা করে বেশি দিতে হবে। একই সময়ে দ্বিতীয় প্যাকেজের বাস বড়লেখা থেকে ছেড়ে শ্রীমঙ্গল ঘুরে সেখানে ফিরে যাবে। 

ট্যুরিস্ট বাসে করে ঘুরতে আসা একাধিক পর্যটক জানান, এই উদ্যেগের কারণে অল্প খরচে এখানকার পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখার একটি সুযোগ করে দিয়েছে ট্যুরিস্ট বাস। বাসের সেবার মানের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তারা। 

টুরিজম নিয়ে কাজ করেন চৌধুরী ভাস্কর হোম। তিনি জানান, উদ্যোগটি আরও আগে নেয়া উচিৎ ছিলো। তাহলে পযটকরা এখানে এসে ভাড়া নিয়ে হয়রানীর স্বীকার কম হতেন। তবুও দেরিতে হলেও এজেলায় পর্যটকদেরও প্রত্যাশা পূরণ করবে এই বাস। 


আর ট্যুরিস্ট বাসের সুপারভাইজার জুবেদ আলী জানান, বাস চলাচল শুরুর পর থেকেই পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে। শ্রীমঙ্গল ও বড়লেখায় হানিফ ও শ্যামলী কাউন্টারে বাসের টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। 

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, পর্যটকদের অনেকে যাতায়াত সমস্যার কারণে সব পর্যটন স্পট দেখতে পারেন না। তাছাড়া অটোরিকশা, অটো চালকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া হাঁকেন। তাই পর্যটকদের সুবিধার্থে ট্যুরিস্ট বাস চালু করা হয়েছে। এ বাস সার্ভিস চালুর ফলে মৌলভীবাজারের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণও বাড়বে। এ বাস সার্ভিস মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হলে ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।


একাত্তর/আরএইচ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন