ঢাকা ২২ মে ২০২২, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

তেলের দাম আগের অবস্থায় নিতে সিপিডির পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২১ ১৮:৩৮:১৪ আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০২১ ২০:৪৮:৪৪
তেলের দাম আগের অবস্থায় নিতে সিপিডির পরামর্শ

করোনাকালে মানুষের আয়ের উৎস এবং আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে নিত্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া বিবেচনায় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম কমিয়ে আবারো আগের দামে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডি।

বুধবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি কতটুকু প্রয়োজন ছিল?’ শিরোনামে এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি একথা জানায়। সেই সঙ্গে বেশ কিছু সুপারিশ ও অভিমত তুলে ধরে।

গত সপ্তাহে সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য বাড়িয়েছে ৩০ শতাংশ এবং ফার্নেসে পাঁচ শতাংশ। এর আগে ২০১৬ সালের শেষে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ছিলো ৬৮ থেকে ৬৫ ডলার প্রতি লিটার, ২০২০ সালে তা ২৩ দশমিক তিন ডলারে নামে ২০২১ সালের অক্টোবর শেষে আবার ৮৩ দশমিক সাত ডলারে উঠেছে।

সিপিডির অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনা কেটে যাওয়ার ইঙ্গিতে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তবে নতুন করে দরিদ্র মানুষ বাড়ছে, আয় কমেছে, কর্মসংস্থান কমছে। এখন দারিদ্রসীমার নিচে আছে ৩৫ শতাংশ। তাই জ্বালানি তেলের দামের বাড়লে সাধারণ মানুষ চাপে পড়বে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে হয়তো বিত্তবানদের ওপর খুব একটা প্রভাব পড়বে না। কিন্তু যারা দরিদ্র এবং যারা নতুন করে দরিদ্র হয়েছে, যারা কোভিড আক্রান্ত অর্থনীতিতে নতুন করে পুনরুদ্ধারের চেষ্টার মধ্যে রয়েছে, তাদের ওপর যে প্রভাব পড়বে, আমরা যদি ন্যায্যতার কথা বলি সেই ন্যায্যতার দিক থেকেও এটা একটা অন্যায্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

জ্বালানি তেল আবার আগের দামে ফিরিয়ে নেয়ার সুপারিশ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, জ্বালানি তেল একটি কৌশলগত পণ্য। এই পণ্য ছাড়া অর্থনীতি অচল হয়ে পড়বে। এই পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ববর্তী দামে ফিরে যাওয়া দরকার।

আরও পড়ুন: ই-কমার্স খাতে কেনাকাটায় কার্ডের ব্যবহার কমেছে

প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যুক্তিসংগত নয়। সরকারের নীতিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং রাজনৈতিকভাবে এটা কোনো আলোকিত সিদ্ধান্ত নয় বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে।’

আর সিপিডির ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করছে সরকার। এতে গণতন্ত্রে মানুষের সাথে সরকারের যে চুক্তি থাকে তারও অমর্যাদা হচ্ছে।

একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন