ঢাকা ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ মুক্তবাণিজ্য চুক্তি চায় সিবিআই

জুলিয়া আলম, লন্ডন থেকে
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২১ ১৩:২০:১৬ আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০২১ ২০:২৩:৪৮
যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ মুক্তবাণিজ্য চুক্তি চায় সিবিআই

বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ বা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি চেয়েছে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীদের অন্যতম সংগঠন কনফেডারেশন অফ ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রি  সিবিআই। ধারনা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির দ্রুত অগ্রগতির কারণে এখনই এই চুক্তিতে আগ্রহী ব্রিটিশরা।

লন্ডনে একাত্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে  সিবিআই প্রেসিডেন্ট লর্ড কারান ফারিদূন বিলমোরিয়া এ কথা জানান।

বিলমোরিয়া বলেন, ব্রেক্সিট পরবর্তী যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক বাণিজ্যনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে এফটিএ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে হয়েছে, এমনকি ভারতের সঙ্গেও যুক্তরাজ্যের এফটিএ আলোচনা চলছে। 

সিবিআই আশা করছে বাংলাদেশও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে এফটিএ বা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করতে উদ্যোগী হবে, বলেন বিলমোরিয়া।

বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ অর্থনীতি যুক্তরাজ্য। ক্রয়ক্ষমতায় বেশ সম্পন্ন ভোক্তাদের বড় বাজার সেটি। আর বাংলাদেশের রপ্তানির তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্যও এই দেশ।

দু’দেশের বাণিজ্য বছরে প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন পাউন্ড। যদিও এর মধ্যে সাড়ে তিন বিলিয়নই বাংলাদেশের রপ্তানি। এমন পরিস্থিতিতেই দ্বিপাক্ষিক এফটিএ চাইছে সিবিআই।

ব্রেক্সিটে ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলেও এলডিসি কোটায় বাংলাদেশ আরও কয়েক বছর শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাবে যুক্তরাজ্যে। তাই আপাতভাবে মনে হতে পারে যে বাংলাদেশের এফটিএ’র প্রয়োজন নেই।

বিশ্বখ্যাত কুবরা বিয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের বিলমোরিয়া বলেন, বাংলাদেশিরা খুবই পরিশ্রমী এবং উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা। তিনি যুক্তরাজ্যে অভিবাসী বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট বা কারি হাউজ মালিক এবং সেদেশ সফরকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে এসব গুন দেখেছেন।

তিনি বলেন, প্রায় ছয় লাখ বাংলাদেশি এখন ব্রিটেনের অভিবাসী। যারা সবাই তাদের মাতৃভূমির এক একজন রাষ্ট্রদূত হতে পারেন। তারা বাংলাদেশের কান্ট্রি ইমেজ উন্নয়ন এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।

এদিকে মুক্তবাণিজ্য নিয়ে সিবিআই এর প্রস্তাব প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশি পণ্য আগামী কয়েক বছর যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও এলডিসি তালিকা থেকে বের হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উন্নয়নের কথা বিবেচনায় আনলে ইউকে-বাংলাদেশ এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। 

তিনি বলেন, শুধু পণ্য নয় সব ধরনের সেবা খাত যুক্ত করে এফটিএ করলে বাংলাদেশও দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবে। কারণ আইটি এবং আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন সেবা বাংলাদেশ কম দামে পাবে। 

আরও পড়ুন: ‘সিটিং সার্ভিস’ বন্ধে রাজধানীর রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত

ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ড. ওয়ালী তসর উদ্দিনও একাত্তরের সঙ্গে আলাপকালে একই মত পোষণ করে বলেন, ব্রিটেনে নার্সসহ বিভিন্ন দক্ষ ও উচ্চ আয়ের পেশায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ হতে পারে, যা সেদেশ থেকে রেমিট্যান্স অনেক বাড়িয়ে দেবে। 

ড. তসর উদ্দিন আরও বলেন, বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে কিভাবে ব্রিটিশ বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানো যায়।



একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন