ঢাকা ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

নোবেলজয়ীর রান্নার পাঠ

নভেরা কাজী
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২১ ২০:২৬:৩৯ আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০২১ ২১:৩৯:১৬
নোবেলজয়ীর রান্নার পাঠ

বছর তিনেক আগেও অভিজিৎ ব্যানার্জির নাম জানতেন খুব কম সংখ্যক বাঙালি। তবে তা পাল্টে যায় ২০১৯ সালে। চতুর্থ বাঙালি হিসেবে নোবেল জয় করে পৃথিবীর আনাচে কানাচে থাকা বাঙালিদের গর্বের কারণ হয়ে ওঠেন তিনি। এখন বলতে গেলে ভীষণ মেধাবী একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে তাকে প্রায় সবাই চেনেন।

তবে অর্থনীতির পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ে অভিজিতের হাত বেশ পাকা, আর তা হলো রান্না। তাই এবার অর্থনীতি নয়, অভিজিৎ আসছেন রান্নার বই নিয়ে। বইটির প্রকাশকের মতে, অভিজিৎ যতটা না ভালো অর্থনীতিবিদ, তার চেয়েও ভালো একজন রন্ধনশিল্পী। 

অভিজিতের বইয়ের নাম 'কুকিং টু সেইভ ইওর লাইফ'। বাংলা করলে মোটামুটি অর্থ দাঁড়ায়, 'জীবন বাঁচানোর জন্য রান্না'। বোঝাই যাচ্ছে, রান্নায় যারা নিতান্ত আনাড়ি তাদের জন্যই এই বই। 


অভিজিৎ ব্যানার্জি যখন জীবনে প্রথম রান্না করেছিলেন, তখন তার বয়স ছিল মোটে ১৫ বছর। তারপর চল্লিশ বছর ধরে তাকে বহুবার রান্না করতে হয়েছে। আর এই দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়েই লেখা হয়েছে 'কুকিং টু সেইভ ইওর লাইফ'।

বইটির বিশেষত্ব হলো, বিভিন্ন খাবারের রেসিপির পাশাপাশি ঠিক কোন পরিস্থিতিতে কোন খাবারটি রান্না করতে হবে তাও বাতলে দিয়েছেন অভিজিৎ। যেমন ধরুন 'রাসবেরি সেভিচে'। এটি রান্না করতে হবে যখন আপনি বাসায় আসা অতিথিদের আপনার রুচিশীলতা ও রান্নার দক্ষতা দিয়ে তাক লাগিয়ে দিতে চান। 

আবার সাধারণ ঘরোয়া ডাল রান্না করতে হবে যখন শীতের কোন এক দিনে আপনার একটু উষ্ণতার স্পর্শ দরকার। এক বইয়েই ডাল রান্নার তিন রেসিপি দিয়েছেন অভিজিৎ। 

বইটি লেখার পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে অভিজিৎ বলেছেন, এটি লেখা শুরু হয়েছিলো তার এক আত্মীয়কে বড়দিনের উপহার দেয়ার জন্য। পরে তিনি ভাবলেন, রান্না নিয়ে তার চিন্তাভাবনা এবং অভিজ্ঞতাকে বইয়ের রূপ দিলে মন্দ হয় না। 


অভিজিতের ভাষায়, খাবার কখনও হতে পারে পরিবারের জন্য উপহার, কখনও কাউকে খুশী করার উপায়, আবার কখনও নিজেকে প্রকাশ করার মাধ্যম। 

বইটির প্রত্যেকটি রেসিপিই এরকম একেকটা গল্প বলে। এই যেমন ছোলার ডালের স্যুপ, যা অনুপ্রাণিত করেছিল এক বিয়ের প্রস্তাবকে; আবার এক সহজ মাছের ঝোলের রেসিপি যা আপনার অতি চালাক বন্ধুকে অবাক করে দেবে। বইটিতে আছে মরোক্কান সালাদ বানানোর রেসিপি যেটা শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে; অথবা হৈ-হুল্লোড় আর উদযাপনের পর খাওয়ার জন্য বিরিয়ানির রেসিপি। 

বইটিতে দামী ক্যামেরায় তোলা ছবির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে অভিজিতের রান্নার সঙ্গী শায়েন অলিভারের হাতে আঁকা ছবি। এর কারণ হিসেবে অভিজিৎ বলেন, তিনি প্রাধান্য দিতে চেয়েছেন খাবারের স্বাদকে, চেহারাকে নয়। 

অভিজিতের রেসিপিগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রান্না থেকে অনুপ্রাণিত। তবে এখানে যে ভারতীয় স্বাদের একটা বিশেষ জায়গা আছে তা না বলে দিলেও চলে। বিশেষ করে ভারতীয় স্ট্রিট ফুড থেকে বেশ কিছু আইডিয়াকে অন্য দেশের টেকনিকের সাথে ব্যবহার করেছেন তিনি। 

"রান্না করতে যারা দক্ষ তাদের হয়তো এই বই তেমন একটা কাজে আসবে না। তবে এটা সত্যি যে রেসিপির বাইরেও রান্না বিষয়ে নতুন কিছু শেখাতে পারবে এটি", বইটি সম্পর্কে বলেছেন অভিজিৎ। 


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন