ঢাকা ২৯ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

মিথ্যা তথ্য দিয়ে গৃহঋণ নিলে পাঁচ বছরের জেল

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২১ ১৫:১৭:৪৩ আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২১ ১৫:২১:১১
মিথ্যা তথ্য দিয়ে গৃহঋণ নিলে পাঁচ বছরের জেল

বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) থেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে গৃহঋণ নেওয়ার সাজা বাড়িয়ে ‘বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল- ২০২১’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল- ২০২১’ সংসদে পাসের জন্য তোলেন। পরে সেটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে বিলটির ওপর বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সদস্যদের দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আগের আইনে বলা ছিল, করপোরেশনের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার সময় কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বিবরণী দেন বা জেনে শুনে মিথ্যা বিবরণী ব্যবহার করেন বা কর্পোরেশনে যে কোনো ধরনের জামানত গ্রহণে প্রবৃত্ত করেন তাহলে দুই বছর কারাদণ্ড, দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

নতুন বিলে সেটাকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে জাকারবার্গকে আইনি নোটিশ

এছাড়াও, লিখিত সম্মতি ছাড়া প্রসপেক্টাসে বা বিজ্ঞাপনে বিএইচবিএফসির নাম ব্যবহারের সাজা আগে ছিল ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা। বিলে জরিমানা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

এদিকে, বিদ্যমান আইনে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশনের অনুমোদিত মূলধন ১১০ কোটি আর পরিশোধিত মূলধন ১১০ কোটি টাকা ছিল। সংশোধেনে অনুমোদিত মূলধন করা হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা, পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকা।

বিলে বলা হয়, করপোরেশনের পরিচালকের মেয়াদ হবে ‘সরকারের সন্তুষ্টিক্রমে’ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ। করপোরেশন সরকারের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ নিতে পারবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘করপোরেশনের কার্যপরিধি বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি, পরিচালনা পর্ষদের গঠন সুনির্দিষ্টকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ, তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে দেশীয় ও আন্তির্জাতিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনসহ ঋণ গ্রহণ, অপরাধের শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি, অপরাধের আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা, ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ ও অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের বিধান সংযোজনসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংগতি রেখে বিদ্যামান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে বিলটি আনা হয়েছে।’

আরও পড়ুন: শ্রমিক সংকটে অভিবাসীদের জন্য দ্বার খুলছে জাপান

বিলটির জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব ওঠানোর সময় জাপার শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রথমবার ফ্ল্যাট নির্মাণকারীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, যেসব কর্মকর্তা মিথ্যা তথ্য দেখেও ঋণ দেন তাদের শাস্তির বিধান রাখতে হবে।

সংশোধনী প্রস্তাব ওঠানোর সময়, তিনি শহরে এলাকার সঙ্গে গ্রামেও গৃহঋণ দেওয়ার দাবি জানান।

জাপার আরেক সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তারা পাঁচ শতাংশ সুদে ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ পান। এই সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত করা হোক।’

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ সহজ শর্তে স্বল্পআয়ের মানুষের গৃহঋণ দেওয়ার দাবি করেন। এছাড়াও সময়মতো বিলের নোটিশ না পাওয়ার অভিযাগ করেন অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন