ঢাকা ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

৬৫ টি বধ্যভূমিতে মঞ্চায়িত হচ্ছে ‘গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার’

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২১ ১৫:৪০:৩৩
৬৫ টি বধ্যভূমিতে মঞ্চায়িত হচ্ছে ‘গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার’

পৃথিবীর ইতিহাসে নির্মম গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাঙালী নিধনের উৎসবে মেতেছিল, তাদের পরিচালিত সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের স্থান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সারা বাংলাদেশে, এসব বধ্যভূমির সবগুলো এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। 

এই প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপন  উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দেশের সকল জেলায় ‘গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার’ শিরোনামে নাট্য নির্মাণ করছে। 


বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে দেশের ৬৪ জেলার ৬৫টি বধ্যভূমিতে মঞ্চায়িত হচ্ছে গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার। গত ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের পানির ট্যাঙ্ক বধ্যভূমিতে মঞ্চস্থ হয় নাটক 'খুলি'। 


তানভীর আহমেদ সিডনীর রচনা এবং মীর মেহবুব আলম নাহিদের নির্দেশনায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি টাঙ্গাইল রেপার্টরি নাট্যদলের শিল্পীরা নাটকটি পরিবেশন করেন। আর অনলাইন মাধ্যমে নাটকটি উদ্ভোধন করেন নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকি। 

 

পানির ট্যাংকি বধ্যভূমি। যে বধ্যভূমিতে স্বজনেরা হত্যাকাণ্ডের শিকার আপনজনদের প্রাণহীন দেহটা খুঁজতে ছুটে এসেছিল, সেই বধ্যভূমিতে আজ দর্শকেরা উপস্থিত। আজ পানির ট্যাংক বধ্যভূমি যেন প্রাণ পেয়েছে, প্রাণ পেয়েছে এইখানে গণহত্যার শিকার মানুষেরা। এই বধ্যভূমির বৃক্ষেরা, যারা কালের সাক্ষী, তারা আগত দর্শকদের এই হত্যাক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া গণহত্যার ইতিহাসের বয়ান তুলে ধরে। 

 

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসে অবস্থান নিয়ে শুরু করে হত্যাযজ্ঞ। রাজাকার আলবদরদের সহায়তায় টাঙ্গাইল শহর আর তার আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে আনতো এই সার্কিট হাউসে। নির্যাতন চালানোর পর এই পানির ট্যাংক এলাকায় নিয়ে তাদের হত্যা করে ফেলে রাখা হতো। 

 

একাত্তর/ এনএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন