ঢাকা ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

কব্জি দিয়েই এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন মোবারক আলী

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২১ ১৮:৫৭:৫০ আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২১ ১৯:১৮:৩৭
কব্জি দিয়েই এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন মোবারক আলী

জন্ম থেকেই দুই হাতের কব্জি ছিল না মোবারক আলীর। তার ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় ছিলেন অভিভাবকরা। ছেলের জন্য মা মরিয়ম বেগমের চেষ্টার কমতি ছিল না। বিচলিত হলেও ভেঙ্গে পড়েননি তিনি। দুই হাতের কব্জি একসাথে করে খাতায় লেখার কৌশল শেখানো হতো তাকে। এভাবেই অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষাতে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।

একইভাবে এসএসসি পরীক্ষায় কব্জি একত্র করে উত্তরপত্র লিখছে মোবারক আলী। দুটি হাতের আঙ্গুল না থাকলেও সুস্থ স্বাভাবিক শিক্ষার্থীর মতই পরীক্ষা দিতে দেখা যায় তাকে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী মোবারক কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের দিনমজুর এনামুল হকের ছেলে। জন্মের পর থেকে এভাবেই বেড়ে ওঠে সে। দুটো হাত অচল হলেও তার আঁচ লাগতে দেননি শিক্ষাজীবনে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও কঠোর পরিশ্রম করে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন এবার।

সোমবার সকালে ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ৯ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী গণিত বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাড়তি সময় লাগে না তার। অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই পরীক্ষা দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে সে। নির্ধারিত সময়ে হল ত্যাগ করে অন্যদের সাথে।

আরও পড়ুন: ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা: দশ বছর পর মামলার রায় ২ ডিসেম্বর

মোবারক আলীর মা মরিয়ম বেগম বলেন, দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে বড়। নিজের কাজগুলো প্রায় সব নিজেই করতে পারে। ওর ইচ্ছাশক্তি প্রবল। আমরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। তার পড়ে তাকে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

মোবারক আরও জানান, হতদরিদ্র পরিবারে আমার জন্ম। কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। আমার জন্য দোয়া করবেন যেন ভালো রেজাল্ট করে বাবা-মাসহ শিক্ষকদের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি। 

কাশিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জায়দুল হক জানান, মোবারক প্রতিবন্ধী হলেও যথেষ্ট মেধাবী এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও পারদর্শী। আশা করছি সে ভালো ফলাফল করবে।

ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব গোলাম কিবরিয়া জানান, মোবারক শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে বাড়তি সময় দেয়া হয়েছে। তবে সে অন্য শিক্ষার্থীদের মতো করেই প্রতিটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।


একাত্তর/টিএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন