ঢাকা ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

‘ভাইব্বা ল কিং’ কিশোর গ্যাংয়ের ৯ সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২১ ২০:৫৮:৪৭ আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২১ ২১:৪৮:৫৫
‘ভাইব্বা ল কিং’ কিশোর গ্যাংয়ের ৯ সদস্য আটক

ভাইব্বা ল কিং। শুনে মনে হতে পারে কোন জনপ্রিয় সংলাপ কিংবা নাটক-সিনেমার নাম। আসলে এটি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি কিশোর গ্যাংয়ের নাম। অন্যান্য সব কিশোর গ্যাংয়ের মতোই এদের কারবার ও জীবনযাপন। 

মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চুরি-ডাকাতিসহ আধিপত্য বিস্তার করে আসছে এই গ্যাংটি। তারা ভাড়ায় বিভিন্ন স্থানে হুমকি ও মারধরে অংশগ্রহণ করে। এছাড়া ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গেও জড়িত এই গ্যাংয়ের সদস্যরা।

এই কিশোর গ্যাংয়ের ৯ সদস্যকে আটক করছে র‌্যাব। সোমবার রাতে নগরীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ও সাত মসজিদ হাউজিং এলাকায় আলাদা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কিশোর গ্যাংটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, সোমবার রাতে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে অভিযান চালানো হয়। এসময় নাঈম, রুমান, তামিম ও সজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের ‘ভাইব্বা ল কিং’ নামে একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপের সদস্য বলে জানায়। 

আরও পড়ুন: আড়াইহাজারে শিশুধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে চাঁদ উদ্যান সংশ্লিষ্ট সাত মসজিদ হাউজিং এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্যাং লিডার মোহন, উদয়, শাকিল, নয়ন ও জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি লোহার দেশীয় তৈরি ছুরি, ১টি স্টিলের হাতলযুক্ত কুঠার, গাঁজা ৫০ পুরিয়া, ২টি স্টিলের তৈরি ছোরা, ১টি স্টিলের তৈরি হোল্ডিং চাকু, ১টি প্লাস্টিকের পিস্তল সদৃশ বস্তু, ৬৫ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা খাওয়ার সরঞ্জামাদি এবং ৩টি মোবাইল জব্দ করা হয়।  

র‌্যাবের মুখপাত্র জানান, ‘ভাইব্বা ল কিং’ নামের এই গ্যাংটিতে ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য রয়েছে। এই দলের লিডার মোহন। ২-৩ বছর আগে তার নেতৃত্বে গ্যাংটি গঠিত হয়। 

গ্রুপটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টিকটক ইত্যাদি ব্যবহার করতো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের গ্যাং সংক্রান্ত বিভিন্ন ঔদ্ধত্যপূর্ণ প্রচারণা পাওয়া যায়।

তিনি আরো জানান, গ্যাংয়ের সদস্যরা অটোচালক, দোকান কর্মচারী, নির্মাণকর্মী ও অফিসের বার্তাবাহক পেশায় থাকলেও তারা মূলত ছিনতাই ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্ন সময়ে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ব্যাংকের আশেপাশে গিয়ে গ্রাহকদের টার্গেট করতো।


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন