ঢাকা ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

কাঠগড়ায় মুখোমুখি মামুনুল-ঝর্ণা, যা ঘটেছিল আদালতে

নিজস্ব প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২১ ১৯:৩৭:২৭ আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২১ ১৯:৪২:৪৭
কাঠগড়ায় মুখোমুখি মামুনুল-ঝর্ণা, যা ঘটেছিল আদালতে

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আজ বুধবার (২৪ নভেম্বর) আদালতে হাজির হন তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা।

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় বুধবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. শাহীন উদ্দিনের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাক্ষ্য গ্রহণের শুরুতে আদালত ঝর্ণার মুখের হিজাব খুলতে বলেন। সেসময় মামুনুল হক উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শরিয়তের হুকুম, হিজাব খুলবে না ঝর্ণা।’

কিন্তু ঝর্ণা তার কথায় কর্ণপাত না করে হিজাব খুলে বিচারককে মুখ দেখান। পরে ফের হিজাব দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) রকিবুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

সূত্রটি আরও জানায়, জেরা চলাকালীন ঝর্ণার দিকে বারবার তাকাতে থাকেন মামুনুল হক। ঝর্ণাকে বারবার বলার চেষ্টা করেন তারা শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে করেছেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) রকিবুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সোনারগাঁও থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বাদীকে জেরা করেছেন। তারা বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন জান্নাত আর ঝর্ণা তার (মামুনুল হক) স্ত্রী। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।’

আরও পড়ুন: রিসোর্ট ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ করে মামুনুল: আদালতে ঝর্ণা

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন মেসবাহ বলেন, ‘বাদী জান্নাত আরা ঝর্ণা মেডিকেল টেস্টে বলেছেন তিনি মামুনুল হকের কালেমা পড়া স্ত্রী। মামুনুল হকের সঙ্গে তিনি ঢাকা থেকে এসেছেন। তাদের অনেকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় তিনি কোথাও মামলা কিংবা জিডি করেননি। কারও কাছে বলেননি।’

এদিন, সকাল সাড়ে আটটার দিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয় মামুনুল হককে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আবার মামুনুলকে কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত তিন এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ওইসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে মামুনুল হককে ঘেরাও করেন। পরে ওই রিসোর্টে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে ব্যাপক ভাঙচুর করে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি ও সাংবাদিক বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এর কিছুদিন পর স্থানীয়রা আরও তিনটি মামলা করেন। ছয়টি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় প্রধান আসামি মামুনুল হক। ৩০ এপ্রিল বিয়ের প্রলোভনে দুই বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ এনে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় মামলা করেন ওই নারী। তবে মামুনুল হক তাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছেন।


একাত্তর/টিএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন