ঢাকা ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ৯ মাঘ ১৪২৮

৯ দফা দাবি মানতে সময়সীমা বেঁধে দিলো শিক্ষার্থীরা

সাজিদ সরকার, একাত্তর
প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২১ ২১:২১:২২ আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২১ ২১:৩০:১১
৯ দফা দাবি মানতে সময়সীমা বেঁধে দিলো শিক্ষার্থীরা

নিরাপদ সড়ক, হাফ ভাড়া ও নটরডেমের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

বেলা ১২টায় তারা ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কে রাপা প্লাজার সামনে অবস্থান নেয়। মঙ্গলবারের মধ্যে দাবি মানা না হলে আবারও আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুরসহ আশেপাশের ১০টিরও বেশি কলেজের শিক্ষার্থীরা সকালে অবস্থান নিতে শুরু করে কলেজ গেটের সামনে। 

পরে, দুর্ঘটনায় নডরডেম কলেজের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কের সামনে অবস্থান নেয় তারা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রতিটি যানবাহন থামিয়ে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করে। লাইসেন্স না থাকলে কিংবা, ডেট ফেল থাকলে, গাড়িগুলো আটকে রাখে। 

তবে জরুরি যান ও অ্যাম্বুলেন্সগুলোর চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়তা করে আন্দোলনরত বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে মিরপুর-ধানমণ্ডি সড়ক বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের তৈরি হয়। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বেলা দু’টার দিকে স্বাভাবিক হয়।

আরও পড়ুন: ভর্তুকি ও স্কুল-কলেজ থেকে টাকা চান ‘গরিব’ মালিকরা

এছাড়া, ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ ও যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার বেলা দেড়টা থেকে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করে। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যাত্রাবাড়ী মোড় ও আশপাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি হলো-

১. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শিক্ষার্থীসহ সব সড়ক হত্যার বিচার করতে হবে এবং হতাহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

২. ঢাকাসহ সারাদেশে সব গণপরিবহনে (সড়ক, রেল, নৌ এ মেট্রো রেল) শিক্ষার্থীদের হাফ পাস জারি করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

৩. গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য যথাস্থানে ফুটপাত, ফুট-ওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

৪. সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সকল যাত্রী এবং পরিবহন শ্রমিকের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

৫. পরিকল্পিত বাস স্টপেজ ও পার্কিং স্পেস নির্মাণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

৬. দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ও যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা মহলকে নিতে হবে।

৭. বৈধ ও অবৈধ যানবাহন চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধতার আওতায় আনতে হবে এবং বিআরটিএ’র সকল কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

৮. আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঢাকাসহ সারাদেশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অবিলম্বে স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিকায়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

৯. ট্রাফিক আইন নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিষয়গুলোকে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করতে হবে।

একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন