ঢাকা ২২ জানুয়ারী ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮

টাকার জন্য জরিপ আলীকে প্রবেশপত্র দিলো না কলেজ কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, নাটোর
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩:৫৭:০৬ আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩:৫৯:৪৪
টাকার জন্য জরিপ আলীকে প্রবেশপত্র দিলো না কলেজ কর্তৃপক্ষ

কলেজের বকেয়া টাকা এবং ফরম পূরণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় নাটোরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার্থী জরিপ আলীকে প্রবেশপত্র দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। সে কারণে দীর্ঘ সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি ওই শিক্ষার্থী। পরে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেন জরিপ আলী।

বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) নাটোর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। 

জরিপ আলী নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়ি গ্রামের মৃত সামসুদ্দিন মন্ডলের ছেলে। তিনি চন্দ্রকলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। আজ নাটোর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে তার হিসাব বিজ্ঞান পরীক্ষা ছিলো।

জরিপ আলীর মা শরিফ বেওয়া বলেন, ২০১৮ সালে তার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে জরিপের উপার্জনেই সংসার চালাতে হয় তাদের। দারিদ্রতার কারণে জরিপ কখনও দিনমজুর আবার কখনও রাজমিস্ত্রীর হেলপার হিসেবে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালায়। অভাবের কারণে কলেজের টাকা দিতে না পারায় তাকে কলেজ থেকে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি। শিক্ষকরা এতোটা পাষাণ হয় আমার জানা ছিলো না!

পরীক্ষার্থী জরিপ আলী জানান, সংসার চালাতে গিয়ে তিনি কলেজের সেশন ফিসহ পরীক্ষার ফিয়ের পুরো টাকা দিতে পারেননি। গত শনিবার তিনি কলেজে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রবেশপত্র চাইলে কলেজের করণিক সামুদ আর শিশির টাকা বকেয়া থাকায় প্রবেশপত্র দিতে অপারগতা জানান। 

তিনি আরও বলেন, নিরুপায় হয়ে আমি ফিরে আসি। আজ দুপুর ২টায় নাটোর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে প্রথম পরীক্ষা (হিসাব বিজ্ঞান) শুরু হয়। আমি কেন্দ্রে গিয়েছি। কিন্তু প্রবেশপত্র না থাকায় পরীক্ষা কক্ষে ঢুকতে পারেননি। পরে মহিলা কলেজের একজন স্টাফ আমাকে জিজ্ঞেস করে কেন ঘোরাফেরা করছি। আমি যখন আমার সমস্যার কথা খুলে বলি তারপর সাংবাদিকদের জানান ওই স্টাফ। সাংবাদিকদের কাছে শুনে জেলা প্রশাসক স্যার এসে কলেজ কর্তৃপক্ষকে ডেকে বকেয়া টাকা পরিশোধ করে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

কেন্দ্র সচিব রেজাউল করিম জানান, চন্দ্রকলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের শিক্ষার্থী জরিপ আলীর পরীক্ষা দিতে না পারার বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ তাৎক্ষণিক ওই কেন্দ্রে চলে আসেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় জরিপ আলীর পরীক্ষা নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, তিনি জরিপ আলীর পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার খবর শুনে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা কেন্দ্রে ছুটে যান। তিনি ব্যাক্তিগতভাবে ওই ছাত্রের কলেজের পাওনাদি পরিশোধ করে তার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। টাকার জন্য প্রবেশপথ না দেওয়া একজন শিক্ষার্থীর জীবন নষ্ট করার সামিল। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।  

তবে জেলা প্রশাসক ছুটে আসলেও আসেননি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমি পারভীন।

আরও পড়ুন: রমনায় হাঁটতে গিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গোবিন্দ কুমার দত্ত জানান, জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ স্যার জরিপ আলীর বকেয়া টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন। প্রবেশপত্র না পাওয়ার বিষয়টি তিনি অনেক পরে জেনেছেন। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমি পারভিন জানান, প্রবেশপত্র না পাওয়ার বিষয়টি ওই শিক্ষার্থী আমাকে কিছুই জানায়নি। জরিপ আলী বা তার পরিবারের কেউ আমাদের কিছু জানায়নি। জেলা প্রশাসক কেন্দ্রে গেলেও তিনি কেন গেলেন না এমন প্রশ্নের জবাবে মোসুমী পারভীন বলেন, পারিবারকি ব্যস্ততায় তিনি যেতে পারেননি।


একাত্তর/আরবিএস  

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন