ঢাকা ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

যাপিত জীবনের কুশলী রূপকার মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:২৮:৫৬
যাপিত জীবনের কুশলী রূপকার মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

অমর কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর লেখা ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্রের সৃজন-কুশলতায়ই বোঝা যায় তিনি কতো বড় লেখক। কুবের, মালা, কপিলা, হোসেন মিয়া-চরিত্রগুলো আপনা-আপনিই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর লেখণীতে এই চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছেন। আজ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৬৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলা হয় গণমানুষের যাপিত জীবনের কুশলী রূপকার। তার লেখাই তাকে শক্তিশালী ও স্মরণীয় করে রেখেছে। একে একে লিখে গেছেন ৪০টি উপন্যাস, ৩০০টিরও অধিক ছোটগল্প আর অসংখ্য প্রবন্ধ। 

তার লেখায় আছে, মানুষের জীবন, জীবনের চিত্র, আছে মানুষের জীবন ও সমস্যাকে গভীরভাবে অনুধাবনের চোখ। জীবনবাদী লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। সাহিত্যই ছিল তাঁর উপার্জনের একমাত্র উপায়। 

জীবনের অতি ক্ষুদ্র পরিসরে মাত্র আটাশ বছরের সাহিত্যজীবনে রচনা করেন পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, পদ্মা নদীর মাঝি। আছে, উপন্যাস ও অতসীমামী, প্রাগৈতিহাসিক, ছোটবকুলপুরের যাত্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো জননী, জীবনের জটিলতা, স্বাধীনতার স্বাদ, পাশাপাশি, সার্বজনীন, ফেরিওয়ালা, হরফ, পরাধীন প্রেম, হলুদ নদী সবুজ বন। 

বাবার বদলির চাকরির সুবাদে মানিকের শৈশব-কৈশোর ও ছাত্রজীবন কেটেছে বাংলা-বিহার-ওড়িষার দুমকা, আরা, সাসারাম, কলকাতা, বারাসাত, বাঁকুড়া, তমলুক, কাঁথি, মহিষাদল, গুইগাদা, শালবনি, নন্দীগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল শহরে। আর ঠিক এই কারণেই বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের সঙ্গে তিনি জানতে পেরেছিলেন মানুষের জীবনচিত্র, মানুষের জটিলতা। আর সব অভিজ্ঞতাকেই লেখক তুলে এনেছেন তার লেখনিতে। 

এছাড়াও, লেখককে আকৃষ্ট করেছিলো, নারী ও পুরুষের জৈবসত্তা বিকাশের নানাদিক। তার বেশিরভাগ উপন্যাসে মানব মনের জটিলতার অসাধারণ যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে।

১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর শক্তিশালী এই কথা সাহিত্যিক মারা যান। 

একাত্তর/ এনএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন