ঢাকা ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

করোনায় লাখো মৃত্যু, অথচ ওষুধের চেয়ে বেড়েছে অস্ত্রের ব্যবসা

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ১৮:৫০:৪১ আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৪৭:০৩
করোনায় লাখো মৃত্যু, অথচ ওষুধের চেয়ে বেড়েছে অস্ত্রের ব্যবসা

একবিংশ শতাব্দীর ভয়ঙ্কর এক ভাইরাস করোনা। উন্নত চিকিৎসার দাপটে যখন আধুনিক মানুষ সকল ব্যাধিকে জয়ের যোগ্য মনে করে নিচ্ছে তখন করোনা এসে যেন দেখিয়ে গেলো সম্পদের 'আছে' এবং 'নেই' অংশের বিভেদে সবকিছুর অসারতা।

মানুষকে বাঁচাতেই 'লকডাউন' দিয়ে ঘরে বন্দি করে রাখতে হয়েছে সবাইকে। থেমে গেছে জীবন। কিন্তু এসবের মাঝেও থেমে থাকেনি প্রতিনিয়ত বিশ্বকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া অস্ত্র ব্যবসা। বরং ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে অস্ত্র কেনাবেচা। খবর ডয়েচে ভেলের।

জার্মানির সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। করোনার দাপটে যেখানে বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় তিন শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, সেই একই পৃথিবীতে অস্ত্রের ব্যবসা বেড়েছে এক দশমিক তিন শতাংশ।


সম্প্রতি স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবদনে বলা হয়, অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রায় প্রতিটি দেশই করোনাকালে অস্ত্র ব্যবসায় বিস্ময়করভাবে উন্নতি করেছে। মজার ব্যাপার হলো, খাবার, ওষুধসহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আমদানি-রপ্তানি করতে অসুবিধা হলেও অস্ত্রের ক্ষেত্রে তেমন কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি।

২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী ওষুধের বাজার ছিলো ১২২৮.৪৫ বিলিয়ন ডলারের। বৈশ্বিক মহামারির ভেতর বর্তমানে সেই বাজার দাঁড়িয়েছে ১২৫০.২৪ বিলিয়ন ডলারে। ওষুধের চাহিদা যখন সর্বোচ্চ পরিমাণ তখন ওষুধের বাজার বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ২২ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে ২০১৯ সালে অস্ত্র ব্যবসায় লাভের পরিমাণ ছিল ৩৬১ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২০ সালে অস্ত্র বিক্রি করে বিশ্বের প্রথম ১০০টি অস্ত্র তৈরির সংস্থা লাভ করেছে ৫৩১ বিলিয়ন বা ৫৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার। হিসেব করলে যে লাভের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার। 

আরও পড়ুন: 'যীশু শিশুদের রক্ষা করবেন, ভ্যাকসিন নয়'

করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ যুক্তরাষ্ট্র হলেও অস্ত্র ব্যবসায় তার কোনো প্রভাবই পড়েনি। অ্যামেরিকার মোট ৪১টি সংস্থা গোটা বিশ্বের মোট অস্ত্রের ৫৪ শতাংশ তৈরি করেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র লকহেড মার্টিন বিক্রি করেছে ৫৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র।


একই পরিস্থিতি এশিয়াতেও। পূর্বে অস্ত্র ব্যবসার প্রধান খাত ইউরোপ ও অ্যামেরিকাকে ধরা হলেও বর্তমানে সে তালিকায় বেশ জোরেশোরেই নাম লিখিয়েছে ভারত। গবেষকরা বলছে অস্ত্র বিক্রিতে ক্রমশ প্রথম সারিতে উঠে আসছে ভারতের নাম। এক বছরে দেশটি এক দশমিক দুই শতাংশ অস্ত্র তৈরি করেছে, যা সংখ্যায় প্রায় দক্ষিণ কোরিয়ার সমান।

প্রসঙ্গত, অস্ত্র তৈরিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ দেশ  দক্ষিণ কোরিয়া। তবে এশিয়ায় অস্ত্রের বাজার সবচেয়ে বেশি দাপট চীনের। চীনের পাঁচটি সংস্থা ১৩ শতাংশ অস্ত্র তৈরি করেছে। তবে চীনের তথ্য গোপনের প্রথা থেকে ধারণা করা হয় বাস্তবে চীনের উৎপাদন আরও অনেক বেশি।

এছাড়া গত এক বছরের অস্ত্র ব্যবসার প্রকাশিত তথ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানের উন্নতি হলেও পিছিয়ে পড়েছে ফ্রান্স ও রাশিয়া। এক্ষেত্রে ভারত ও চীনের অস্ত্র ব্যবসায় সক্রিয় অংশগ্রহণকেই রাশিয়ার পিছিয়ে পড়ার জন্য দায়ী করা হচ্ছে।

তবে অস্ত্রের পাশাপাশি এসময়ে এসে তথ্য প্রযুক্তির বেশ শক্ত অবস্থানে তৈরি হয়েছে। সাইবার যুদ্ধের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে ওঠা গুগল, মাইক্রোসফটের মতো সিলিকন ভ্যালির সংস্থাগুলি প্রভাব রাখছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়। 


একাত্তর/টিএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন