ঢাকা ২২ মে ২০২২, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

জন্মদিনের শুভেচ্ছা সদর্পে বিচরণকারী সৈয়দ শামসুল হক

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২১ ১৪:২০:৫৭
জন্মদিনের শুভেচ্ছা সদর্পে বিচরণকারী সৈয়দ শামসুল হক

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ৮৬ তম জন্মদিন আজ। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রবাদ পুরুষ সব্যসাচি লেখক সৈয়দ শামসুল হক। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প আর অনুবাদে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি আর মুক্তিযুদ্ধ তার রচনার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ।

সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম লেখা ছাপা হয় ১৯৫১ সালে। ১৮ বছর বয়সে, প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতার বই 'একদা এক রাজ্যে'। খেলারাম খেলে যা, নিষিদ্ধ লোবান। এছাড়াও আছে, বিরতিহীন উৎসব, বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা, অপর পুরুষ, পরাণের গহীন ভিতর, নিজস্ব বিষয়, রজ্জুপথে চলেছি, অগ্নি ও জলের কবিতা, কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে, আনন্দের মৃত্যু, প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান, জলেশ্বরীর গল্পগুলো। 

কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প আর অনুবাদ ছাড়াও বাংলা ভাষা-সংস্কৃতি আর মুক্তিযুদ্ধ তাঁর রচনার প্রধান। ‘দেয়ালের দেশ’ দিয়ে লেখা শুরু, তার পর একের পর এক কালজয়ী সৃষ্টি। 

মঞ্চ নাটকে প্রাণসঞ্চারী ভূমিকায় সৈয়দ হকের একেকটা বিরল চিত্রনাট্য। বাংলার অন্তর্জাত স্নেহকে যিনি লালন করেছেন পরম যত্নে, তিনি স্থান করে নিয়েছেন বাংলাভাষা-সাহিত্যের অঙ্গনজুড়ে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার হিরন্ময় এই লেখক বাংলা সাহিত্যকে যে ক’জন আভিজাত্যের শিখরে তুলে ধরেছেন, তাঁদের মধ্যে সৈয়দ শামসুল হক একজন। স্বকীয় সুর, স্বর, সৃষ্টি আর লেখনিতে এমন সহজিয়া ধরন কেবল তিনিই খুঁজে দিয়েছেন বাঙালিকে।

সৈয়দ হকের রচনায় চিত্রিত হয়েছে সমসাময়িক বাংলাদেশ এবং মধ্যবিত্ত সমাজের আবেগ-অনুভূতি। নারীগণ, যুদ্ধ এবং যোদ্ধা, ঈর্ষায় তিনি তুলে এনেছেন সমাজের বাস্তবতা। ভাষা-সংস্কৃতি মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের প্রশ্নে তিনি ছিলেন সোচ্চার। ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ তার অনবদ্য বিস্ময়।

গ্রামীণ জীবনজাত গন্ধ-কলায় তার ডাক পরাণের গহীন থেকে। নিষিদ্ধ লোবান, গণনায়ক তার জীবনঘনিষ্ঠ সাহিত্যকর্ম। কৃষক বিদ্রোহ নিয়ে লেখেন নূরলদীনের সারাজীবন। সংস্কৃতির যুদ্ধেও অবতীর্ণ হন- গলা ছাড়েন, জাগো বাহে, কোনঠে সবায়। 


শেকসপিয়ারের দ্য টেম্পেস্ট, ম্যাকবেথ ছাড়াও বিশ্বসাহিত্যের নানা রচনা অনুবাদ করেছেন তিনি। সব্যসাচী লিখেছেন গান, চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য। 

অনেক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকারও ছিলেন এই লেখক। ১৯৫৯ সালে মাটির পাহাড়, তোমার আমার, শীত বিকেল, সুতরাং, রাজা এল শহরে, বড় ভাল লোক ছিলসহ আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখেন। 

এমন মজা হয় না গায়ে সোনার গয়না, এই যে আকাশ এই যে বাতাস, তুমি আসবে বলে কাছে ডাকবে বলে, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, তোরা দেখ দেখ দেখরে চাহিয়াসহ অসংখ্য কালজয়ী গানের রচয়িতা সব্যসাচী এই লেখক। সবশেষ বাসর হবে মাটির ঘরে নামে নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের জন্য মাটির ঘরে চাঁদ নেমেছে রে শিরোনামে একটি গান লিখে গেছেন।

৬২ বছরের লেখক জীবনে অসংখ্য জাতীয় আন্তর্জাতিক সম্মাননা ছাড়াও একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার,  জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, কবিতালাপ পুরস্কার, লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক, জেবুন্নেসা-মাহবুবউল্লাহ স্বর্ণপদক, পদাবলী কবিতা পুরস্কার, নাসিরুদ্দীন স্বর্ণপদক, টেনাশিনাস পদক, ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

সাহিত্যের সব ক্ষেত্রে সদর্প বিচরণকারী সৈয়দ হক বেঁচেছিলেন ৮১ বছর। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান। 


একাত্তর/ এনএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন