ঢাকা ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

স্থায়ী ঠিকানায় বাণিজ্য মেলার সফলতা নিয়ে আশাবাদ

জাহেদুল ইসলাম, একাত্তর
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২২ ১৮:৪৮:২০ আপডেট: ০১ জানুয়ারী ২০২২ ২১:২১:৩৩
স্থায়ী ঠিকানায় বাণিজ্য মেলার সফলতা নিয়ে আশাবাদ

শীতকালে রাজধানীর মানুষের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন অনুষঙ্গ বাণিজ্য মেলা এবার নতুন ঠিকানায়। রাজধানীর উপকণ্ঠে পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী এই মেলা। এই মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। 

এর আগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হতো। তবে এ জায়গাটি দর্শনার্থী ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছোট হয়ে যেত। এ কারণে, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের নানা উদ্যোগ ও চেষ্টার পর এবার স্থায়ী ভেন্যুতে শুরু হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার মেলার উদ্বোধন করেন। বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হচ্ছে বাণিজ্য মেলা। তবে করোনার কারণে গত বছর মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

বাণিজ্য মেলার ২৬তম আসর উদ্বোধন হলেও, প্রথম দিন অনেক স্টলই প্রস্তুত হয়নি। তবে যাদের প্রস্তুতি শেষ তারা বলছেন রাজধানী থেকে খোলামেলা পরিবেশের কারণে ক্রেতা এবং দর্শনার্থীর আগমনে মেলা সফলই হবে। 

চিরচেনা রূপ পাল্টে যানজটের রাজধানী ছেড়ে অনেকটা নিরিবিলি পরিবেশেই শুরু হলো বাণিজ্য মেলার এই আয়োজন। তবে প্রথম দিনেই প্রস্তুত হতে পারেনি মেলার বেশ কিছু স্টল এবং প্যাভিলিয়ন। এখনো চলছে নির্মাণ এবং পণ্য সাজানোর কাজ।

আরও পড়ুন: ট্রেন তল্লাশি করে গাঁজাসহ তিন যাত্রী গ্রেপ্তার

শনিবারের সরকারি ছুটিতে পড়া বাণিজ্য মেলার প্রথম দিনেও রাজধানীর কেন্দ্র থেকে দূরের মেলার ক্রেতা এবং দর্শনার্থীর এসেছেন আগ্রহভরে। সবাই বলছেন, পণ্যের ভালো মান এবং খোলামেলা পরিবেশের কারণে নতুন ভেন্যুতে মেলা সফল হবে। 

মেলার উদ্বোধনীতে এফবিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন বাংলাদেশি পণ্যের বিক্রি বাড়াতে বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। এর জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতার কথা জানান দিতে হবে ব্যবসায়ীদেরই।

এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে ১১ দেশের ২২৭ প্রতিষ্ঠান। ঢাকার দূরবর্তী হওয়ায় এবারের মেলায় ক্রেতা এবং দর্শনার্থীর যাতায়াত সুবিধায় কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বিআরটিসির ৩০টি গাড়ীর ব্যবস্থা করেছে মেলা কর্তৃপক্ষ।

কুড়িল ফ্লাইওভারের নিচ থেকে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত যাতায়াত করবে এসব বাস। নূন্যতম ২৫ টাকা ভাড়ায় দর্শনার্থীরা যাতায়াত করতে পারবেন। এছাড়া ৩০টি বাসের পাশাপাশি বিআরটিসির মতিঝিল থেকে যে বাস চলাচল করে সেগুলো কুড়িল হয়ে মেলা প্রাঙ্গণে যাবে।

প্রতিদিন মেলা চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে ছুটির দিনে চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। এবার প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে বেড়েছে বাঘের আনাগোনা

বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ২৩টি প্যাভিলিয়ন, ২৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন, ১৬২টি স্টল এবং ১৫টি ফুড স্টল দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা অন্য বছরের তুলনায় অর্ধেক। মেলায় মাত্র ১১টি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি স্টল থাকবে। 

নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক্সিবিশন সেন্টারে বিল্ট ইন ১৬০টি সিসিটিভি থাকছে। অতিরিক্ত ৬০টি সিসিটিভি ক্যামেরা মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। মেলার প্রবেশ গেটে পর্যাপ্ত আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

বাণিজ্য মেলায় বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রদর্শন ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় পার্কিং সুবিধা থাকবে। এছাড়া এক্সিবিশন সেন্টারের ভেতরে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ৫০০ আসনের একটি ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনা করছে।

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন