ঢাকা ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সুইসাইড নোট লিখে চবি ছাত্রের আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারী ২০২২ ১০:৩৫:৪৫ আপডেট: ০৪ জানুয়ারী ২০২২ ১১:০৪:৪০
সুইসাইড নোট লিখে চবি ছাত্রের আত্মহত্যা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মেরিন সায়েন্স বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র অনিক চাকমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আর তার মরদেহের পাশে পাওয়া গেছে ছয় পৃষ্ঠার সুইসাইড নোট। 

সোমবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের পাশে এস আলম কটেজের ২১২ নম্বর রুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এস আলম কটেজের ২১২ নম্বর রুমে থাকতেন মেরিন সায়ন্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অনিক চাকমা। সোমবার রুমের দরজা সকাল ১০টা পর্যন্ত বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন অনিকের বন্ধুরা। একপর্যায়ে তারা জানালা দিয়ে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. কবির হোসেন জানান, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আত্মহত্যা কি-না সেটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি প্রক্টর ড. শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মৃতদেহের পাশে ছয় পৃষ্ঠার সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। চিরকুটে আত্মহত্যার কথাটি স্পষ্ট করে উল্লেখ না থাকলেও এলোমেলোভাবে তিনি সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে লিখেছেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে পর্যটক ধর্ষণের আরেক আসামি গ্রেপ্তার

সারের আর্থিক দুর্বলতা ও মানসিক বিষণ্ণতার কথা জানিয়ে অনিক সুইসাইড নোটে লেখেন, 'আমি টাকা উপার্জন করতে চেয়েছিলাম যা অসৎ পথ। আমি টিউশন করতাম তবু অনেক হতো। বড় ভাই বাবা মার কাছে আমি খুব দুঃখিত। আমি এমনি খুব ডিপ্রেশনে ছিলাম। আমি ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় থেকে ডিপ্রেশনে আসি। আমি সেই ক্লাস টেন পর্যন্ত ভাল খেলাধুলা করেছি। বন্ধুবান্ধব পেয়েছি। তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। যখন কলেজে আসি তখন আমি ডিপ্রেসড থাকতাম। যার ফলে আমার প্যারালাইসিস হয়েছে।' 

কটেজের ছাত্ররা জানায়, কারো সাথে খুব মেলামেশা বা আড্ডার স্বভাব ছিলনা অনিকের। নিজের সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চেয়ে অনিক লিখেছেন, 'আমি অত্যন্ত লজ্জিত। আমি আপনাদের সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি নিজেকে অত্যন্ত ঘৃণা করি। আমার মা বাবা, বড় ভাইবোন, ছোট ভাইবোন ও বন্ধুবান্ধবদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। জানি আমার কথা শুনলে আপনাদের ঘৃণা লাগবে। আমি নিজেকে, আমার মাকে আর আমার বাবাকে অনেক ভালোবাসি। আর আদরের ছোটভাইকে ভালবাসি।'

রাঙামাটি সদরের বালুখালি ইউনিয়নের স্কুল শিক্ষক মোহনলাল চাকমার দুই সন্তানের মধ্যে বড় অনিক চাকমা। এ ঘটনায় হাটহাজারী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন