ঢাকা ২২ জানুয়ারী ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮

পরিত্যক্ত বোমা দিয়ে তৈরি গ্রাম ‘বান নাপিয়া’

মনিরুজ্জামান বাবু, একাত্তর
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারী ২০২২ ১১:২৪:৫২
পরিত্যক্ত বোমা দিয়ে তৈরি গ্রাম ‘বান নাপিয়া’

লাওসের জিয়াংখুয়াং প্রদেশের বিচিত্র এক গ্রাম ‘বান নাপিয়া’। যেখানে দৈনন্দিন কাজের অনেক কিছুই ব্যবহার হচ্ছে পরিত্যক্ত বোমা দিয়ে। এখানে চলতি পথে কুড়িয়ে পাওয়া যায় সক্রিয় বোমা। আর বোমা বিস্ফোরণের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হয় সবাইকে। 

সবুজ ঘাসে ঢাকা মাঠ পেরিয়ে দূরে রয়েছে পাহাড়ের সারি, আশেপাশেই কুঁড়েঘর কিছু ঘরবাড়ি। মনোরম এই নৈসর্গিক দৃশ্যের মাঝে হঠাৎ করেই হোঁচট খেতে হবে । 


একটু ভালো করে দেখলেই বোঝা যাবে ঘড়ের সীমানার বেড়া দেয়া হয়েছে বোমার শেল দিয়ে। বাড়ির সামনে ফুলের টবগুলোও বোমার খোলসে রাখা। এমনই অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ লাওসের বান নাপিয়া গ্রামে। 

লাওসের এই গ্রামের বাসিন্দাদের বোমার সাথে দৈনন্দিন আর পাঁচটা জিনিসের মতো সম্পর্ক। যুদ্ধ শেষ হওয়ার চল্লিশ বছর পরে এখনো বোমা বিস্ফোরণের ঝুঁকি নিয়ে চলেতে হয় তাদের। 


১৯৬৪ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় লাওসে মোট পাঁচ লাখ আশি হাজার টন বোমা ফেলেছিলো মার্কিন বাহিনী। লাওস এখনো পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বোমাবর্ষণের শিকার হওয়া দেশ।

সমস্যার এখানেই শেষ নয়, যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও দুর্ভোগ পিছু ছাড়েনি হতভাগ্য লাওসবাসীদের। লাখ লাখ বোমা অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে যায়, যেগুলো এখন দুর্ঘটনাক্রমে বিস্ফোরিত হয়ে মানুষের প্রাণহানি-অঙ্গহানির কারণ হচ্ছে। যাদের অধিকাংশ শিকারই আবার শিশু। ২০১২ পর্যন্ত হিসেবে প্রায় ২৯ হাজার মানুষ এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়।


কিন্তু জীবন থেমে থাকে না, এখানকার মানুষ ভালোবেই মানিয়ে নিয়েছে এসব বোমার সাথে। বোমশেল কেটে দু’খণ্ড করে বানানো হয়েছে ফুলের টব। কখনো আবার বড় আকারের বোমার খোল ব্যবহৃত হচ্ছে চুলা হিসেবে। 

লাওস ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের অনেকেরই ভ্রমণ তালিকায় থাকে বম্ব ভিলেজ বান নাপিয়া। গ্রামবাসীরা বোমার স্ক্র্যাপ গলিয়ে বিভিন্ন রকম স্মারক তৈরি করছে পর্যটকদের জন্য গ্রামটিতে গেলে যুদ্ধের ভয়াবহতার অনেক চিহ্ন এখনও দেখতে পাওয়া যায়। 


একাত্তর/ এনএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন