ঢাকা ২৯ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

এক বছরে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েছে ২১ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারী ২০২২ ১৩:২৬:১২ আপডেট: ০৮ জানুয়ারী ২০২২ ১৩:৪৯:১৩
এক বছরে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েছে ২১ শতাংশ

বিদায়ী বছর ২০২১'এ বংলাদেশে সড়ক, নৌ ও রেলপথ মিলিয়ে ৪ হাজার ৯৮৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৬৮৯ জন নিহত এবং ৫ হাজার ৮০৫ জন আহত হয়েছেন। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালের ২১ শতাংশ দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে।

শনিবার (৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আয়োজিত ‘২০২১ সালের সড়ক দুর্ঘটনা পরিসংখ্যান উপস্থাপন’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও অভিনয়শিল্পী ইলিয়াস কাঞ্চন।

ইলেকট্রনিক মিডিয়া, জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পোর্টালসহ অপ্রকাশিত ঘটনা এবং শাখা সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে সেকেন্ডারি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সড়ক পথে ৩ হাজার ৭৯৩টি দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ২৮৯ জন নিহত ও ৫ হাজার ৪২৪ জন আহত; রেল পথে ২৭০টি দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত ও ৪২ জন আহত হয়েছেন।

নৌ পথে ৯০টি দুর্ঘটনায় ১৯৮ জন নিহত, ১৮৬ জন নিখোঁজ ও ৩৩৯ জন আহত; অপ্রকাশিত তথ্যে প্রায় ৮৩০টি দুর্ঘটনায় ৯৪৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি ও রিলিজের পর আনুমানিক ২০ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে।

আর তিন বছরের তুলনামূলক চিত্রে দেখা গেছে, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৯৮৩টি। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালের ৮৯১টি সড়ক দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে।

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৭০২টি। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালের সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কম ৬১০টি। কিন্তু এবারে ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালের ২১ শতাংশ দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে।

আরও পড়ুন: শীতে কাবু উত্তরাঞ্চল, বেড়েছে রোগ, বিপাকে চিকিৎসকরা

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারিতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অফিস-আদালত, দোকানপাট ও গণপরিবহন বন্ধ দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। কিন্তু এর মধ্যেও অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি সড়ক দুর্ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে ২০২১ সালে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কারণ হিসেবে নিম্নোক্ত কারণগুলোকে উল্লেখ করা হয়েছে-

১। সড়কের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের অভাব

২। টাস্কফোর্সের ১১১টি সুপারিশনামা বাস্তবায়ন না হওয়া

৩। চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা

৪। দৈনিক চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালনা করা

৫। লাইসেন্স ছাড়া চালক নিয়োগ

৬। পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব

৭। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে ওভারটেকিং করা

৮। বিরতি ছাড়াই দীর্ঘসময় ধরে গাড়ি চালনা

৯। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালনা বন্ধে আইনের প্রয়োগ না থাকা

১০। সড়ক ও মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও তিন চাকার গাড়ি বৃদ্ধি

১১। মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি

১২। একই রাস্তায় বৈধ ও অবৈধ এবং দ্রুত ও শ্লথ যানবাহন চলাচল এবং

১৩। রাস্তার পাশে হাটবাজার ও দোকানপাট থাকা।

অনুষ্ঠানে নিসচার মহাসচিব সাদেক হোসেন বাবু, দুর্ঘটনা ও পরিসংখ্যান সম্পাদক সৈয়দ এহসানুল হক কামাল, বুয়েট অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান তালুকদারসহ প্রমুখ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।


একাত্তর/টিএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন