ঢাকা ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ছাত্রলীগ পরিচয়ে টিকা না দেওয়ায় হাসপাতাল ভাঙচুর

নিজস্ব সংবাদদাতা, সরিষাবাড়ি
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারী ২০২২ ২০:২৬:০০ আপডেট: ০৮ জানুয়ারী ২০২২ ২২:০৪:৩০
ছাত্রলীগ পরিচয়ে টিকা না দেওয়ায় হাসপাতাল ভাঙচুর

জামালপুরের সরিষাবাড়িতে সিরিয়াল ভেঙে টিকা দিতে না দেয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা ও ভাঙচুর করেছে টিকা নিতে আসা ছাত্রলীগ পরিচয়ের একদল যুবক। 

এসময় বাধা দিলে হামলাকারীরা আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারসহ সাতজনকে পিটিয়ে আহত করে। গুরুতর আহতদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

শনিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে সরিষাবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা টিকা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতরা হলেন, সরিষাবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাহেদুর রহমান, টিকার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান খান (এমটিইপিআই), এম্বুলেন্স চালকের সহকারি সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়, নৈশকর্মী রাহুল মিয়া ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসারের গাড়ীর চালক হিরা মিয়া ও ওয়ার্ডবয় হারুন অর রশিদ হারুন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গাজী মোহাম্মদ রফিকুল হক জানান, প্রতিদিনের মতো সরিষাবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকাল থেকে ১২-১৭ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। 

এমন সময় দুপুরে টিকা নিতে আসে একদল যুবক নিজেদেরকে সরিষাবাড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবে দাবি করে বলেন, টিকা নিতে তারা লাইনে দাঁড়াতে পারবেন না।

আরও পড়ুন: ধর্ষণের পর পড়শিদের অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা

এসময় তাদেরকে লাইন ছাড়া টিকা দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়। এ কথা শুনে মূহুর্তেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতালের টিকার ইনচার্জ  মো. আসাদুজ্জামান খান (এমটিইপিআই), এম্বুলেন্স চালকের সহকারি হৃদয় ও ওয়ার্ডবয় হারুন রশিদকে মারধর শুরু করে। 

এসময় বাইরে হট্টগোল শুনে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাহেদুর রহমান এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর ও লাঞ্ছিত করে হামলাকারীরা। 

তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের কাউকে চিনতে না পারলেও ইতোমধ্যে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের সনাক্ত করা যাবে বলেও তিনি জানান। 

ভাংচুর ও মারধরের ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান সরিষাবাড়ি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মজিদ। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। 


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন