ঢাকা ২৯ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

বড় জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আহিদুল ইসলাম, একাত্তর
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারী ২০২২ ১৮:৫৩:৪৫ আপডেট: ০৯ জানুয়ারী ২০২২ ২১:২৩:০২
বড় জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সারাবিশ্বে করোনার অতিসংক্রামক ধরন ওমিক্রনের বিস্তার সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করে বড় জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও আহবানও জানিয়েছেন তিনি। 

রোববার (৯ জানুয়ারি) দেশের আট বিভাগীয় শহরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা জানান। 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেহেতু ওমিক্রন নতুনভাবে একটা আবার সারা বিশ্বে দেখা দিচ্ছে, এখানে আমাদের দেশের মানুষকে একটু স্বাস্থ্য সুরক্ষাটা মেনে চলতে হবে। আর শীতকালে প্রাদুর্ভাবটা বাড়ে। এমনি সাধারণত আমাদের দেশে শীতকালে একটু সর্দি, কাশিও হয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখে সকলে মাস্কটা ব্যবহার করবেন। খুব বড় সমাগমে যাবেন না। সেখান থেকে একটু নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখবেন। আর কোনো বড় সমাবেশ যেন না হয়, সেটার দিকে লক্ষ্য রাখবেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধিটা সবাই মেনে চলবেন, সেটাই আমি চাচ্ছি।’

আরও পড়ুন: ঢাকার সাথে সিলেট-চট্টগ্রামের বিকল্প সড়ক ২০২৪ নাগাদ

করোনা মহামারী প্রতিরোধে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেও, ‘৩১ কোটির বেশি ডোজের ব্যবস্থা আমরা করে রেখেছি। ইতোমধ্যে আমরা টিকা দিয়ে যাচ্ছি। একটি মানুষও যেন টিকা ছাড়া না থাকে। সেক্ষেত্রে আমি দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানাব, অনেকেই ভয় পান, গায়ে সুঁই ফোটোবে সেই ভয়ও আছে। নানা ধরনের অপপ্রচারও ছিল’।

ওমিক্রনে শিশুরা বেশি আক্রান্ত জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেজন্য আমরা বাংলাদেশে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের টিকা দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। তাছাড়া আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা ভয় না পেয়ে টিকাটা নিয়ে নেন। টিকাটা নিলে অন্তত আপনার জীবনটা রক্ষা পাবে’।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ‘শুধু ভ্যাকসিন কেনাটাই না, ভ্যাকসিন দেবার জন্য যেই সমস্ত পণ্য প্রয়োজন হয়, যে লোকবল প্রয়োজন হয়, টেকনিশিয়ান প্রয়োজন হয়, সেগুলো পরীক্ষা করার জন্য- এই সব কিন্তু আমরা করে দিচ্ছি একেবারে বিনা পয়সায়। পৃথিবীর অনেক ধনী দেশও কিন্তু বিনা পয়সায় দেয় না। কিন্তু বাংলাদেশ দিচ্ছে, কারণ মানুষের সেবা করাটাই আমাদের বড় কাজ। এজন্য বাজেটে আলাদাভাবে আমরা টাকাও বরাদ্দ রেখে দিয়েছি এবং যত টাকাই লাগুক আমাদের এই কার্যক্রম আমরা অব্যাহত রাখব। সেটা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।

মহামারীর মধ্যে অর্থনীতি সচল রাখতে প্রণোদনা দেয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার জন্য আমরা বিশেষ বরাদ্দ বাজেটে রেখেছি। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আমাদের বাজেটে রাখা আছে। এর বাইরেও যদি প্রয়োজন হয় আমরা খরচ করতে পারব। সেভাবে আমাদের উদ্যোগ নেয়া আছে। তাছাড়া আমরা আলাদা একটা ফান্ডও তৈরি করেছি। কাজেই সেভাবেই আমরা মানুষের চিকিৎসা সেবাটা দিয়ে যাচ্ছি’।

অনুষ্ঠানে সরকার প্রধান আরো বলেন, ‘দেশে ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব একটু বেশি দেখা যাচ্ছে। কিডনি ও হার্টের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এই ব্যাপারগুলো যখন বেশি দেখা যাচ্ছে, তখন জনগণকে বলব যেসব স্বাস্থ্যবিধি মানলে সুস্থ থাকা যায়, সেগুলো মেনে চলুন’।

চিকিৎসকদের গবেষণায় দৃষ্টি দেয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘নামী-দামি চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা দিতেই ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু কিছু সময় গবেষণার দিকে নজর দিলে দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু, পরিবেশ সবকিছু মিলিয়ে এই দেশের মানুষের কী কী ধরনের রোগবালাই হয় এবং তার প্রতিরোধ শক্তি কীভাবে বাড়ানো সেই ব্যবস্থা নেয়া যায়’।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


একাত্তর/এআর


মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন