ঢাকা ২২ জানুয়ারী ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮

শাহজালালে হযবরল অবস্থা, যাত্রী ভোগান্তি চরমে

রহিম রুমন, একাত্তর
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারী ২০২২ ২২:১৬:০৩ আপডেট: ১০ জানুয়ারী ২০২২ ১২:৩৪:২৭
শাহজালালে হযবরল অবস্থা, যাত্রী ভোগান্তি চরমে

করোনা মহামারির শুরু থেকেই আলোচনায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিশেষ করে নানাবিধ কারণে এই বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

এরমধ্যে প্রধান দুই কারণের মধ্যে রয়েছে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে বিমান চলাচল বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যেতে আগ্রহীদের করোনার পিসিআর টেস্টে নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা।

বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজের অংশ হিসাবে ডিসেম্বরের ১০ তারিখ থেকে আগামী তিন মাস রাত ১২টা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত রানওয়ে বন্ধ থাকছে।

এর ফলে বিমানবন্দর ব্যবহারকারী এয়ারলাইন্সগুলোকে তাদের সময়সূচী পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে। স্বল্প সময়ে বেশি ফ্লাইটের চাপ থাকায় তৈরি হয়েছে যাত্রী জট।

অন্যদিকে, আরব আমিরাতগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরের পিসিআর ল্যাব থেকে করোনা পরীক্ষার বাধ্যবাধকতার কারণে দিনে তিন-চার হাজার যাত্রীর সময় লাগছে অন্তত ৮-৯ ঘণ্টা করে।

এতে যাত্রীদের বিমানবন্দরে অবস্থানকালে বেড়েছে। এতে বেড়েছে ভোগান্তি। ভুগতে হচ্ছে খাদ্য সংকটেও। কর্তৃপক্ষ বলছে আগামী ছয়মাস এই কষ্ট মেনে নিতে হবে।

শনিবার রাত এগারোটার ফ্লাইটে দুবাই যাবেন হবিগঞ্জের মনির। । তাই ১১ ঘন্টা আগে সকাল দশটায় বিমানবন্দরে হাজির হয়ে যান তিনি।

কারণ, বিমানবন্দরেই করতে হবে করোনার পিসিআর টেস্ট। পরীক্ষার ফল হাতে পেয়ে তবেই ওঠার সুযোগ পাবেন বিমানে। এই প্রক্রিয়াই শেষ হতে নূন্যতম সময় লাগছে ছয় ঘন্টা।

আমিরাতগামী এমন হাজারও যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে বিমানবন্দরে। তাদের বলে দেয়া হয়েছে কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘন্টা আগে বিমানবন্দরে যেতে হবে।

দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে থাকার কারণে অনেককেই নিম্নমানের খাবার খেতে হচ্ছে। কিংবা উপোষ কাটাতে হচ্ছে। করোনা পরীক্ষার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা থাকলে হয়তো তাদের কষ্ট কিছুটা কমতো।

আরব আমিরাতগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার জন্য বিমানবন্দরে আসতে হয় ছয় ঘণ্টা আগে। ইমিগ্রেশনেও আছে কালক্ষেপণের পালা। সেখানেও কেটে যায় তিন থেকে চার ঘণ্টা।

কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগামী অন্তত ছয় মাস পরিস্থিতিটা এমনই থাকবে।

আরও পড়ুন: এখনই লকডাউন নিয়ে ভাবছে না সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তারা জানান, পিসিআর ল্যাব রিপোর্ট দিতে দেরি করছে। অনেক অভিযোগ দেয়া হচ্ছে। কোনো কাজ হচ্ছে না। উল্টো পিসিআর টেস্টে দেরির দায়ভারও তাদের ওপর চাপানো হচ্ছে।

এছাড়া বিমানবন্দরে নিম্নমানের খাবার খেয়ে প্রবাসীদের শারীরিক সমস্যার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন