ঢাকা ২৯ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

টিকা না পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস অনলাইনে

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী ২০২২ ১২:১৯:০৯ আপডেট: ১০ জানুয়ারী ২০২২ ১৭:১২:২৭
টিকা না পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস অনলাইনে

কেবিনেটের নির্দেশনা মতে যাদের টিকা দেওয়া হয়নি তারা আপাতত অনলাইনে টেলিভিশনে ক্লাস করবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

সোমবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৩১ জানুয়ারির মধ‌্যে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৪৪ লাখ শিক্ষার্থীকে করোনা প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া সম্পন্ন হবে। ভর্তি ফরম, রেজিস্ট্রেশন বা আইডি কার্ড দিয়ে শিক্ষার্থী প্রমাণ হলেই টিকা দেওয়া হবে।

দিপুমনি বলেন, এই পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিত। কারণ মোট ৪৮ লাখ ১৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ১২-১৮ বছরের শিক্ষার্থী টিকার আওতায় এসেছে। ৭৫ লাখের বেশি এখনো টিকার বাইরে রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই। আপাতত সীমিত পরিসরে ক্লাস চলবে।’

তিনি বলেন, নতুন বছরে আমরা পরীক্ষা নিতে চাই। আমাদের পাবলিক পরীক্ষাগুলো আমরা নিতে চাই। সময়মতো হবেনা, স্বাভাবিক। কারণ আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারেনি। আমরা একটা আভাস দিয়েছি, বছরের মাঝামাঝি গিয়ে আমরা পরীক্ষা নিতে পারবো। আমরাদের সিদ্ধান্ত এখনো সেই জায়গাতেই আছে। কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া সম্ভব না। আমরা পর্যবেক্ষণ করতে থাকবো। যখন আমরা মনে করবো এখন সম্ভব, তখন আমরা তারিখ দেবো। অনেক বেশি আগে বলা সম্ভব হবে না।

মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে পেছাবে। আমাদের হাতে তো সব নেই। পরিস্থিতি তো আমরা চাইলেই বদলাতে পারবো না। যে কোনো সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আপডেট দেওয়া হবে। অন্য কারো কোনো কথায় কান দেওয়া যাবে না।

বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছেনা আমরা বন্ধ করলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসাথে বন্ধ করবো নাকি ধাপে ধাপে। তবে, আমরা শিক্ষার্থীদের যাতে কম ক্ষতি হয়, সে চেষ্টাই করবো।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও আমরা এখনই বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছি না। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই টিকা পেয়েছেন, শিক্ষকরা টিকার আওতায় এসেছেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। সেক্ষেত্রে আপাতত এগুলোর কার্যক্রম চলমান থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এসএসসি ও এইচএসসি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সব সাবজেক্ট হবে কিনা পরিস্থিতি বুঝে বলা যাবে।

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণ বাড়ার পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। টানা দেড় বছর বন্ধ রেখে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে।

আরও পড়ুন: সাইফ উদ দোহা শহীদ মারা গেছেন 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক।

একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন