ঢাকা ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

জেলের বাইরে 'বাঘ হাবিব', চিন্তায় বাঘপ্রেমীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, শরণখোলা
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারী ২০২২ ১৫:৪৬:৫৩ আপডেট: ১১ জানুয়ারী ২০২২ ১৭:৪৯:১৬
জেলের বাইরে 'বাঘ হাবিব', চিন্তায় বাঘপ্রেমীরা

বাগেরহাটের শরণখোলায় ৭০ বাঘ হত্যায় অভিযুক্ত বাঘ হাবিব জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটি ও পরিবেশবাদী সংগঠনের ব্যক্তিরা। তাদের আশঙ্কা, হাবিব ওরফে বাঘ হাবিব আবারও সুন্দরবনে প্রবেশ করে বাঘসহ বন্যপ্রাণী শিকারে লিপ্ত হতে পারে। 

তবে হাবিবের দাবি, তার বিরুদ্ধে ৭০ বাঘ হত্যার অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক। এত বাঘ তিনি শিকার করেননি। তবে তার বিরুদ্ধে বন বিভাগের দায়ের করা আটটি মামলা রয়েছে। 

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ অফিসার মো. সামসুল আরেফিন জানান, হাবিব একজন বন্যপ্রাণী হত্যাকারী দাগী আসামি। জেল থেকে ছাড়া পেলেও তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। 

নাম তার হাবিব তালুকদার। কিন্তু সুন্দরবনে নিয়মিত বাঘ শিকারের কারণে তিনি স্থানীয়দের কাছে বাঘ হাবিব নামেই বেশি পরিচিত। হাবিব শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন সোনাতলা গ্রামের কদম আলী তালুকদারের পুত্র।  

আরও পড়ুন: গ্রেপ্তার আতঙ্কে জনশুন্য চার গ্রাম, ঘরে ফেরার আহবান পুলিশের

কয়েকমাস আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে হাবিবের নামে ৭০ বাঘ হত্যার অভিযোগ ওঠে। এরপর বাঘ ও হরিণ শিকারের মামলায় হাবিব গত সাতমাস জেল খেটে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

হাবিব মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরায় উৎকণ্ঠা বেড়েছে টাইগার টিমসহ বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যদের মাঝে। তাদের আশঙ্কা, হাবিব আবারও বাঘ হত্যা করতে বনে প্রবেশ করতে পারে। 

তবে ৭০ বাঘ হত্যার অভিযোগে হাবিব নিজেই অবাক হয়েছেন। তার মতে, সুন্দরবনে গিয়ে এত বাঘ মারা খুব সহজ কাজ নয়। 

শরণখোলা ষ্টেশন কর্মকর্তা মান্নান হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে বন বিভাগের দায়ের করা দুইটি বাঘের চামড়া ও ছয়টি হরিণের চামড়া পাচারের মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, হাবিব ছোটবেলা থেকে সুন্দরবনে মাছ শিকার করতো। পরে তার চোখ যায় বাঘ ও হরিণ শিকারের দিকে। 

বাঘ শিকারের কারণে মানুষ তার নাম দিয়াছে বাঘ হাবিব। তিনি হরিণও শিকার করে থাকেন। 

কেউ কেউ বলছেন, ৭০ বাঘ হত্যা করা মুখের কথা নয়। তবে ৫-১০ টি বাঘ সে শিকার করে থাকতে পারে। কিন্তু এই বাঘ সে একাই শিকার করেনি। এর পিছনে গডফাদার রয়েছে। 

আরও পড়ুন: আগামী দুইদিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, বাড়বে শীত

এসব গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এলাকাবাসী। 

শরণখোলা বন রক্ষা বিষয়ক সংগঠন সিপিজির সদস্য খলিলুর রহমান জানান, হাবিব তার প্রতিবেশীদের কাছে বিভিন্ন সময় ৩০-৪০টি বাঘ শিকারের কথা জানিয়েছে। 

বনরক্ষা বিষয়ক পিপলস ফোরামের স্থানীয় সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জোমাদ্দার বলেন, 'শুনেছি বাঘ হাবিব প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। সত্যিই আসতে চাইলে তাকে সে সুযোগ দেয়া উচিৎ।' 

সর্বশেষ হিসেবে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ১১৪ টি। বাঘের সংখ্যা রক্ষা করতে হলে শিকারিদের যে কোন উপায়ে প্রতিহত করার আহবান জানান তিনি। 


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন