ঢাকা ২২ মে ২০২২, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সাড়ে তিন বছরে স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি আদায় করেন বঙ্গবন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারী ২০২২ ১৯:৫৩:৩২ আপডেট: ১১ জানুয়ারী ২০২২ ২০:০০:৩৪
সাড়ে তিন বছরে স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি আদায় করেন বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধু দেশের দায়িত্ব নিয়ে পরিবর্তন শুরু করেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি আদায় করে দেন। মানুষ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে এগুলো হতো না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত থেকে সভাপতিত্ব করেন। 

স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ভুট্টো নিজের চামড়া বাঁচাতে এবং বাংলাদেশে আটকে পড়া ৯৬ হাজার পাকিস্তানিকে ফেরত নিতে ও আন্তর্জাতিক চাপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশে ফিরে তিনি সবার আগে ফিরে যান দেশের মানুষের কাছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তান আধা-ঔপনিবেশিক আমলের যে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, তা পরিবর্তন করে বাংলাদেশের গ্রামের তৃণমূলের মানুষের হাতে ক্ষমতার অধিকার দিতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। জনগণকে প্রজাতন্ত্রের মালিক করতে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি দিয়ে সেই পদক্ষেপও তিনি নিয়েছিলেন। তিনি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সার্বিক উন্নয়নকে কেন্দ্রীভূত না রেখে বিকেন্দ্রীকরণ করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলেন, যেন বাংলাদেশ কারও মুখাপেক্ষী না হয়, দেশের মানুষ যেন বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। যখনই তিনি ঘুণে ধরা সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ বিনির্মাণের পদক্ষেপ নেন, তখনই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোট পেয়েছি বলে তিনবার ক্ষমতায় আসতে পেরেছি, আর ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় আছি। জনগণের ভোট না পেলে ক্ষমতায় থাকতে পারতাম না। ভোটচুরি করলে জনগণ ক্ষমতায় থাকতে দেয় না। ভোটচুরি করেছিলো বলে ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর খালেদা জিয়া দেড় মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। 

শেখ হাসিনা বলেন, আজ যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তারা অতীতের ইতিহাস ভুলে গেছেন। বিএনপির শাসনামলে নির্বাচনের নামে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে হত্যা, গুম, নির্যাতন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ভালো কাজ করলে পেছনে লেগে থাকা এক শ্রেণির মানুষের অভ্যাস। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। বিদেশে গেলে বাংলাদেশ বন্যা-দুর্ভিক্ষের দেশ আর শুনতে হয় না। উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে হবে। 

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ভোটের অধিকার নিয়ে যারা ছিনিমিনি করেছে তারা শাস্তি পেয়েছে। এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে জেলে গেছে, দয়া করে বাড়িতে থাকতে দিয়েছি, তার ছেলে পলাতক আসামি, বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তার সঙ্গে আছে স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের সন্তানরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন যারা দেখে না তাদের চোখ খুলে পড়েছে। লুটপাট করতে পারছে না, গরিব মানুষ দেখিয়ে ভিক্ষা আনবে আর খাবে, সেটা পারছেন না বলে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

আন্তর্জাতিক মহলে এখন বাংলাদেশ রোলমডেল বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ভাড়া বাড়ানোর দাবি বাস মালিকদের

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী প্রমুখ। 



একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন