ঢাকা ২৯ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

কাদায় ভাসছে পর্যটন নগর দুর্গাপুর

নিজস্ব সংবাদদাতা (দুর্গাপুর) নেত্রকোনা
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী ২০২২ ১৭:৪১:০৩ আপডেট: ১২ জানুয়ারী ২০২২ ২১:০৪:০৪
কাদায় ভাসছে পর্যটন নগর দুর্গাপুর

ভারতের মেঘালয় থেকে বয়ে আসা শীতল বাতাসে নেত্রকোনার তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৫ থাকলেও জেলার দুর্গাপুরের চিত্রটা ব্যতিক্রম। কনকনে এই শীতে দুর্গাপুরের রাস্তায় বের হলে মনে হবে এ যেন ঘোর বর্ষাকাল। শহরের প্রতিটি রাস্তা ভাসছে কাদা-পানিতে। অথচ পর্যটন সম্ভাবনাময় এই নগরীর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভৌগলিক নির্দেশক স্বীকৃতি বা জিআই সনদ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিজয়পুরের সাদা মাটির পাহাড়সহ অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের প্রতিদিনই ভোগাচ্ছে কাদাভরা সড়কগুলো। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১০ সাল থেকে শহরটি প্রাণ ও নানা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সোমেশ্বরী নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বালুখেকোদের তাণ্ডব। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র বালু তোলাসহ অপরিকল্পিত পরিবহনে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে দুর্গাপুর। এই নিয়ে বেশ কয়েকবার পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো সর্তক করলেও লাভ হয়নি কিছুই। 

পৌর শহরের পথঘাটসহ বহুল কাঙ্ক্ষিত দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ মহাসড়ক নিয়ে প্রতিনিয়ত ভেজা বালু পরিবহনে কাদায় জরাজীর্ণ থাকে সারা বছরই। শহরের প্রেসক্লাব মোড়, তেরি বাজার, কালীবাড়ি মোড়, কলেজ রোড, হাসপাতাল মোড়, উপজেলা মোড়, কাচারি মোড়সহ অলিগলিতেও স্তূপ বেঁধে থাকে কাদা। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে পথচারীদের যাতায়াত, তেমনি লোকসানের মুখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। 


পৌর শহরের ভেতর দিয়ে বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধসহ কয়েক দফা দাবি নিয়ে গেল বছর স্থানীয়দের লাগাতার আন্দোলন করেও কোনও সুফল আসেনি। স্থানীয়দের দুর্ভোগ কাটাতে স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ বালুবাহী ট্রাকের জন্য বাইপাস সড়কের আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি গেল এক বছরেও। উল্টো দুর্ভোগ বেড়েছে আরও কয়েকগুণ। 

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রতিবছর কোনও সমীক্ষা যাচাই ছাড়াই জেলা প্রশাসক সোমেশ্বরী নদী থেকে পাঁচটি বালুমহাল ইজারা দিয়ে আসছে। অথচ বালুর ট্রাক চলাচলের জন্য এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থাই করতে পারেনি প্রশাসন। নামমাত্র মাইকিং করে ভেজা বালু পরিবহন নিষেধাজ্ঞা দিলেও এর তোয়াক্কা করে না কেউ। যে যার মতো বালু পরিবহন করে যাচ্ছে। আইন থাকলেও নেই এর প্রয়োগ। যার ফলে দুর্ভোগ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। 

স্থানীয়রা জানান, বালু ব্যবসায়ীদের কাছে সবাই অসহায়। কারণ আইন প্রণেতারাই আইন অমান্য করে। তাহলে আইন কিভাবে সঠিক পথে চলবে। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি দুর্গাপুর পৌর শহরের ভিতর দিয়ে চলাচল করছে। এমন একটা গাড়িও মিলবে না যারা ভেজা বালু পরিবহন করে না। দুর্গাপুরে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সবসময়ই রাস্তাঘাটে দেখা মিলবে কাদা ও ময়লা পানি। 


নিরাপদ সড়ক চাই দুর্গাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি নুরুল আলম জানান, পৌর শহরের ভেতর দিয়ে বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধের দাবিতে আমরা কয়েকবার মানববন্ধন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কোনও প্রতিফলন দেখতে পারিনি। কাদার কারণে সড়ক দিয়ে চলাচল করা যায় না। প্রতিনিয়ত স্থানীয় জনগণ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ পর্যটকরা এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। আর কতদিন মানুষ এভাবে কষ্ট করবে? 

এদিকে ভেজা বালু পরিবহন বন্ধে প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিব উল আহসান। 

তিনি বলেন, দুর্গাপুরবাসীর এই দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে চেষ্টা করছি। এর জন্য আমরা সবসময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ছোট-বড়ো বিভিন্ন ট্রাককে জরিমানার আওতায় আনছি। বালু মহালের ঠিকাদারদের ভেজা বালু পরিবহন বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি সকলের প্রচেষ্টা থাকলে ভেজা বালু পরিবহন বন্ধ করা যাবে। 


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন