ঢাকা ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯

লকডাউনে 'মদ পার্টি' আয়োজন করে বিপাকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী ২০২২ ২১:২৭:০৫ আপডেট: ১২ জানুয়ারী ২০২২ ২২:২৬:১১
লকডাউনে 'মদ পার্টি' আয়োজন করে বিপাকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যে করোনভাইরাসের প্রথম লকডাউনের সময় নিজের সরকারি বাসভবনে 'নিজের মদ নিজে আনুন' পার্টিতে যোগ দেওয়ার জন্য ক্ষমা চাইলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তবে বিরোধী শিবিরের নেতারা বলছেন, এই অদ্ভুত কাণ্ডের জন্য তার পদত্যাগ করা উচিত।

জনসন স্বীকার করেছেন যে, ২০ মে ২০২০ সালে টেন ডাউনিং স্ট্রিটের ওই মদের পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। অথচ সে সময় দেশটিতে সামাজিক জমায়েতগুলোকে একেবারে সীমিত করা হয়েছিলো। 

জনসন ব্রিটিশ সংসদে বলেছেন, আমি জানি যে বিরোধী শিবির আমার নেতৃত্বে থাকা সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করবে। কারণ, যারা নিয়মগুলো তৈরি করছে তারাই সঠিকভাবে তা অনুসরণ করেননি। 

তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালের ২০ মে সন্ধ্যা ৬ টার পরে আমি সেই পার্টিতে গিয়েছিলাম এবং সেখানে মাত্র ২৫ মিনিট ছিলাম। তারপর আমি আবার অফিসে ফিরে কাজ করছিলাম। আমার উচিত ছিলো, সেখান থেকে অন্যদেরও বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া।

জনসনের এমন বক্তব্যের জবাবে বিরোধী লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার বলেছেন, জনসনকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে এবং জনসাধারণ তাকে মিথ্যাবাদী হিসবে চিনেছে। 

স্টারমার অনেকটা উপহাস করেই বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মদ পার্টি শেষ। 

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্তের নতুন রেকর্ড, প্রায় দুই হাজার মৃত্যু

জনসনের নিজের দলের রক্ষণশীল সংসদ সদস্যরা (এমপি) বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের প্রতি জনসন কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তার ওপর তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। 

পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র কনজারভেটিভ এমপি বলেছেন, জনসনের ক্ষমতায় টিকে থাকাটা এখনও একটা ভারসাম্যের মধ্যে রয়েছে। 

ব্রিটিশ সংসদে ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছেন জনসন। জনসনের জীবনীকার অ্যান্ড্রু গিমসন বলেন, সংসদ জোরপূর্বক তাকে বহিষ্কার না করলে তার পদত্যাগের সম্ভাবনা কম। তিনি একটি উপায় খুঁজছেন, কারণ তিনি পদত্যাগ করার মতো লোক নন। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত এক লাখ ২০ হাজার ৮২১ জন এবং মারা গেছেন ৩৭৯ জন। মহামারীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে এক কোটি ৪৭ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৪ জন আক্রান্ত এবং মারা গেছেন এক লাখ ৫০ হাজার ৬০৯ জন। 


একাত্তর/আরবিএস  

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন