ঢাকা ২৯ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

বাতাসে ২০ মিনিটে ভেসে থাকলেই ৯০% সংক্রমণক্ষমতা হারায় করোনা: গবেষণা

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী ২০২২ ২২:২৩:৫৭ আপডেট: ১৩ জানুয়ারী ২০২২ ১১:১৩:৪৭
বাতাসে ২০ মিনিটে ভেসে থাকলেই ৯০% সংক্রমণক্ষমতা হারায় করোনা: গবেষণা

বাতাসে ২০ মিনিট ভেসে থাকলেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণক্ষমতা ৯০ শতাংশ কমে যায় বলে দাবি করেছেন একদল গবেষক। এছাড়া বাতাসে প্রথম ৫ মিনিটের মধ্যেই ভাইরাসটি তার বেশিরভাগ সংক্রমণক্ষমতা হারায়।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের অ্যারোসল রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে। 

গবেষকরা বলছেন, করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। করোনা রুখতে সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরা সবচেয়ে কার্যকারী ব্যবস্থা।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের অ্যারোসল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক জোনাথন রিড বলেন, করোনা সাধারণত বায়ুর মাধ্যমে ছড়ায়। ফলে সংক্রমিত ব্যক্তির কাছে গেলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হবে। আপনি সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে যতো দূরে সরে যাবেন, ততো নিরাপদ থাকবেন। কারণ, এই সময়ের মধ্যেই করোনা তার সংক্রমণের ক্ষমতা হারায়।

যদিও মার্কিন গবেষকরা দেখিয়েছেন, বাতাসে তিন ঘণ্টা ভেসে থাকার পরও করোনা তার সংক্রমণক্ষমতা হারায় না। তবুও আমরা যখন কাশি দেই বা শ্বাস নিই তখন কি ঘটে, এই জাতীয় পরীক্ষাগুলো তা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে না।

রিড জানান, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের গবেষক দল একটি যন্ত্রের সাহায্যে অতি ক্ষুদ্র ভাইরাসবাহী কণা সংগ্রহ করে তা দুটি বৈদ্যুতিক বৃত্তের ভেতর ৫ সেকেন্ড থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত  বাতসে ভাসতে দেন। পরীক্ষার সময় ওই স্থানের তাপমাত্রা, বাতসের আর্দ্রতা ও অতিবেগুনি রশ্মির পরিমাণ একই রাখা হয়।

রিড আরও বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে প্রথমবারই প্রথম তারা এটা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, হাঁচির সঙ্গে বের হওয়া ড্রপলেট কিভাবে বাতসে করোনাভাইরাস ছড়াতে সাহায্য করে।

যদিও এই গবেষণার তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এখনও সেভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি।


আরও পড়ুন: লকডাউনে 'মদ পার্টি' আয়োজন করে বিপাকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

তবে অধ্যাপক রিড বলেন, এর মানে হল যে আমি যদি আজকে দুপুরের খাবারের জন্য বন্ধুদের সাথে দেখা করি, প্রাথমিকভাবে আমি আমার বন্ধুদের দ্বারা আক্রান্ত হবো, অথবা আমার বন্ধুরা আমার দ্বারা আক্রান্ত হবে। ঘরের অন্য দিকেও কেউ থাকলে একই ঝুঁকি থাকে। এমন পরিস্থিতিতে মাস্ক পরার গুরুত্ব অপরিসীম কারণ আমরা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারি না অনেকক্ষেত্রে। 

এদিকে এই গবেষণাটি করা হয়েছে করোনার ডেলটা ধরনের ওপর। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ওমিক্রন ধরন নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করার আশা করছে গবেষণা দলটি।

 

একাত্তর/আরবিএস  

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন