ঢাকা ২২ জানুয়ারী ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮

শীতের শেষের সূচনা, আজ পৌষ সংক্রান্তি

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারী ২০২২ ১৬:০৬:৩৩
শীতের শেষের সূচনা, আজ পৌষ সংক্রান্তি

আজ পৌষের শেষ দিন। পৌষের বিদায়ে শেষ হবে সূর্যের দক্ষিণায়ন। এবার উত্তরায়ন শুরু। অর্থাৎ শীতের শেষের সূচনা। এবার বেলার সঙ্গে বাড়বে উষ্ণতাও। আর বাংলা বছরের পৌষ মাসের এই শেষ দিনটি সারাদেশে পৌষ সংক্রান্তি হিসেবে পালন করা হয়। গ্রাম বাংলায় দিনটি পৌষ পার্বণ হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। বাড়িতে বাড়িতে বাহারি পিঠা-পুলির সঙ্গে আয়োজন করা হয় ঘুড়ি উৎসবেরও। বসে মেলা। 


এদিন রাজধানীর পুরান ঢাকা মাতবে সাকরাইন উৎসবে। সেই মুঘল আমল থেকেই পুরান ঢাকায় সাড়ম্বরে পালিত হয়ে আসছে দিনটি।  উৎসবে অংশ নেন ছোট-বড়ো সবাই। পুরান ঢাকা এলাকার মানুষ এ উৎসবে দিনব্যাপী ঘুড়ি উড়ান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে বাড়বে ঘুড়ির সংখ্যা, বাড়বে উৎসবের রঙ। সব মিলিয়ে রঙিন ঘুড়িতে ছেয়ে যাবে ঢাকার আকাশ। সারাদিন ঘুড়ি উড়ানোর পরে সন্ধ্যায় আতশবাজি ফুটিয়ে, ফানুস উড়িয়ে উৎসবের সমাপ্তি হবে। 


অপরদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশসহ পাশের দেশ ভারতে এই পৌষ সংক্রান্তি মকর সংক্রান্তি নামেও পরিচিত। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন আয়োজনে দিনটি উদযাপন করা হয়। কোনো কোনো রাজ্যের এটি প্রধান উৎসব।

পশ্চিমবঙ্গে মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তিতে মূলত নতুন ফসলের উৎসব ‘পৌষ পার্বণ’ উদযাপিত হয়। নতুন ধান, খেজুরের গুড় ও পাটালি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি করা হয়।  

উত্তরপ্রদেশে এই উৎসবের নাম উত্তরায়ণ। ঘুঘুটি বা মকর সংক্রান্তি বলেও ডাকা হয় সেখানে।

অন্ধ্রপ্রদেশে এই উৎসবের নাম পেড্ডা পান্ডুগা।

তেলেঙ্গানায় দিনটি পালন করা হয় সংক্রান্তি, মকর সংক্রান্তি বা উত্তরায়ন হিসাবে। মধ্যপ্রদেশেও তাই। তবে সেখানে কেউ কেউ দিনটিকে মকর সংক্রমণও বলেন।

ওড়িশায় এ দিনটির নাম মকর চাউলা বা মকর সংক্রান্তি।

বিহারে অনেকে এই দিনটিকে তিল সংক্রান্তি হিসাবেও পালন করেন।

কেরলে এই উৎসবের নাম মকরভিলাক্কু বা মকর জ্যোতি। কর্ণাটকে সুগ্গি হাব্বা নামে ডাকা হয় একে।

তামিলনাড়ুতে একে পোঙ্গল বলা হয়। প্রতিবেশি দেশ শ্রীলঙ্কাতেও অনেকে পোঙ্গল পালন করেন। খুব ধুমধাম করে দিনটি পালন করা হয়। 

মহারাষ্ট্র এবং গোয়ায় একে ডাকা হয় হলদি কুমকুম নামে। অনেকে আবার মাঘি সংক্রান্তিও বলেন।

গুজরাটে এদিন ঘুড়িরও উৎসব। উত্তরায়ণ নামে ডাকা হয় দিনটিকে। হিমাচল প্রদেশে একে ডাকা হয় মাঘি সাজি নামে। রিয়ানায় এর নাম সক্রত।

পঞ্জাবেও এর নাম মাঘি। এদিন লোরি উৎসব পালন করা হয় রাজ্যে।

আসামে এই দিনটিতে পালন করা হয় মাঘ বিহু। ভোগালি বিহুও বলেন অনেকে। ত্রিপুরাই একে হাংরাই বলা হয়।

সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াতেও এই দিনটি পালন করা হয়। উজাভার থিরুনাল আর থাই পোঙ্গাল বলা হয় একে।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন