ঢাকা ২২ জানুয়ারী ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮

মাঘের শুরুতেই শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারী ২০২২ ১৬:০৪:৩৫ আপডেট: ১৫ জানুয়ারী ২০২২ ১৯:৫২:১৭
মাঘের শুরুতেই শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ

কথায় বলে ‘মাঘের শীতে বাঘ কাঁপে’। ঢাকাবাসীর কাছে মাঘের শীত তেমন অনুভূত না হলেও, উত্তরাঞ্চলের মানুষকে কাঁপাচ্ছে। যাকে বলে হাড় কাঁপানো শীত পড়েছে উত্তরে।

কুয়াশায় ঢেকে থাকছে সেখানকার জনপদ। টানা বৃষ্টির পর শীত আরও বেড়েছে। শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিস বলছে, তামপাত্রা আরও কমবে। বয়ে যেতে পারে আরও এক থেকে দুইটি শৈত্যপ্রবাহ। সেই সঙ্গে কুয়াশাও বাড়তে পারে।

দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। এক দিনের ব্যবধানে দেশের বেশির ভাগ এলাকার তাপমাত্রা তিন থেকে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমেছে।

ফলে দেশের কমপক্ষে দশ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে। থাকবে আরও দু’দিন। এরপর তাপমাত্রা একটু বাড়বে। ২৪ ডিসেম্বর থেকে আবার শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে।

অনুকূল পরিস্থিতির কারণে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসা শীতল বাতাস দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। যে কারণে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে।

শীত বাড়ার এই সময়ে অসুখ-বিসুখও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা জ্বর-সর্দি, গলা ব্যথা ও ভেঙে যাওয়া, নিউমোনিয়া এবং আমাশয়ে আক্রান্ত হচ্ছে।


করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের দ্রুত বিস্তারের সাথে এই শীতের রোগগুলো লক্ষনের সঙ্গে মিল থাকায় জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণও করে তুলেছে।

হিমালয় পাদদেশে উত্তরাঞ্চলে মাঘের প্রথম দিনে শীতের ছোবলে কাহিল হয়ে পড়েছে সেখানের জনজীবন। হিমেল বাতাস শরীরে কাঁটার মতো বিঁধছে।

পঞ্চগড়ে গেলো দুই দিন ধরেই চলছে তৃতীয় দফার মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এই দুই দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা নেমে এসেছে আটের ঘরে।

অনেক বেলা পর্যন্ত থাকছে ঘন কুয়াশা আর সেই সাথে ঠাণ্ডা বাতাসে কষ্টে পড়েছেন জনপদের মানুষ। চারদিন পর শনিবার সূর্য্যের দেখা মিলেলেও নেই উত্তাপ।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মাঘের শুরুতেই দাপটের সঙ্গে হাজির হবে শীত। তাপমাত্রা নামতে থাকবে। মেঘ-বৃষ্টি বন্ধ হয়ে শৈত্যপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়বে বিভিন্ন জেলায়।

গত কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা আর মেঘ-বৃষ্টির খেলা শেষে  শীতে কাঁপছে নীলফামারীবাসী। ঘন কুয়াশা হিম বাতাস আর শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

ঘন কুয়াশার কারণে অনেক বেলা পর্যন্ত বিভিন্ন যানবাহন নিরাপদ যাত্রার জন্য চলাচল করছে হেড লাইট জ্বালিয়ে। ছিন্নমূল মানুষ আশ্রয় নিয়েছে স্টেশনের বারান্দা ও টার্মিনালে।

ব্যাহত হচ্ছে কম আয়ের মানুষের কাজ। ঘন কুয়াশায় ব্যাহত হচ্ছে বোরোর আবাদ। টানা দুই সপ্তাহে নষ্ট বীজে দেখা দিয়েছেন পচন রোগ।

উত্তরের আরো এক শীতপ্রবন জেলা গাইবান্ধা। গত দুদিন ধরে সেখানেও তাপমাত্রা কমছে, রাতভর বৃষ্টির মতো পড়ছে কুয়াশা।

সেই কুয়াশা থাকছে বেশ বেলা পর্যন্ত। যে কারণে শীত অনুভূত হচ্ছে বেশি, যা ব্যাহত করছে গ্রাম ও চরাঞ্চলের মানুষের জনজীবন।

কুড়িগ্রামেও বাড়ছে শীতের তীব্রতা। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কনকনে শীতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষের।

আরও পড়ুন: ভারতে একদিনে আক্রান্ত আড়াই লাখের বেশি, ৪০২ জনের মৃত্যু

বিশেষ করে কৃষি শ্রমিকরা পড়েছেন বিপাকে। সময়মতো জমিতে যেতে পারছেন কৃষিকাজের জন্য। সেই সঙ্গে ঘন কুয়াশার নষ্ট হতে চলেছে আলুর বীজতলা।

লালমনিরহাটে দুপুর পর্যন্ত শীত কিছুটা সহনীয় থাকলেও বিকেল হতেই কমছে তাপমাত্রা। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমেছে বলছে আবহাওয়া অফিস।

সূর্যের লুকোচুরিতে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। তবে জীবন-জীবিকার তাগিদে হাড়কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে খুব সকালে কাজের খোঁজে বের হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষরা।

সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। একই দিনে যানবাহনগুলোকে কম গতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে।


একাত্তর/আরবিএস  

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন