ঢাকা ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ইসি গঠনে আইনের খসড়া অনুমোদন, নিয়োগে সার্চ কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ১৫:৩৮:০২ আপডেট: ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ১৭:২০:৩৮
ইসি গঠনে আইনের খসড়া অনুমোদন, নিয়োগে সার্চ কমিটি

মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও কমিশনার নিয়োগের জন্য আইনের খসড়া। 

সার্চ কমিটির মাধ্যমে সিইসি ও কমিশনার নিয়োগের কথা বলা হয়েছে আইনের এ খসড়ায়।  

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সভাশেষে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রিসভার বৈঠকের এই সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে জানান । 

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সিইসি ও কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি সার্চ কমিটি করা হবে। ছয় সদস্যের এই কমিটির প্রধান হবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি।  এছাড়া সদস্য হিসেবে থাকবেন হাইকোর্টের একজন বিচারপতি, মহা হিসাব নিরীক্ষক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতি মনোনীত দু'জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। 

এই সার্চ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিটি যোগ্য ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করলে সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ চূড়ান্ত করবেন। 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, সংবিধানের ১১৮(১)-এ বিধান আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিতে পারেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই আইনটি নিয়ে আসা হয়েছে। খুব বেশি বড় আইন না এটি।’  

প্রস্তাবিত আইনে এ পদগুলোর নিয়োগে কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। কমপক্ষে ৫০ বছর বয়স এবং সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি বা বিচারবিভাগীয় পদে কমপক্ষে ২০ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা নূন্যতম শর্ত। 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু অযোগ্যতার কথাও বলা হয়েছে খসড়ায়। দেউলিয়া হওয়া, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, নৈতিক স্খলন বা যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত হওয়া এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। 

আরও পড়ুন: বুস্টার ডোজ পাবেন পঞ্চাশোর্ধ সকল নাগরিক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই আইনের অধীনেই হচ্ছে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আশা করা যায়, এই আইনটি চূড়ান্ত হতে বেশি সময় লাগবে না। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আইনটি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভেটিং শেষে সংসদে পেশ হলে নতুন কমিশন এই আইনের আওতায় হতে পারে।’ 

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি আইনের কথা সংবিধানে থাকলেও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও সেটা প্রণয়ন করতে পারেনি কোনো সরকার। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চলমান সংলাপে প্রায় সব দলই নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছে। এই আইন প্রণয়নের ব্যাপারে তাগিদ দিয়ে আসছিলো বিদেশি কূটনীতিকরাও।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের বিষয়ে বিগত ২০ ডিসেম্বর থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে এখন পর্যন্ত অংশ নেয় ২৩টি দল। বিএনপি, সিপিবি, বাসদ, এলডিপিসহ বেশ কয়েকটি দল এই সংলাপে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। 


একাত্তর/জো

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন