ঢাকা ২২ মে ২০২২, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

নন্টে ফন্টে আর হাঁদা ভোঁদার স্রষ্টা আর নেই

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারী ২০২২ ১৪:৫০:৪০ আপডেট: ১৮ জানুয়ারী ২০২২ ১৫:১৬:০৯
নন্টে ফন্টে আর হাঁদা ভোঁদার স্রষ্টা আর নেই

একটা সময় বাংলার কিশোরদের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্কে ছিলো ‘বাঁটুল দি গ্রেট’, ‘হাঁদা ভোঁদা’ আর ‘নন্টে ফন্টে’ এর মতো চরিত্রগুলোর সঙ্গে। মনোজগতে তৈরি করেছিলো অন্য এক আবেশ।

যার লেখনি আর আঁকায় এসব চরিত্রগুলোর সঙ্গে বাঙালির চিরকালীন সম্পর্ক তৈরি হয়েছিলো, সেই প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথ ইহকালের মায়া ত্যাগ করেছেন।

কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রবীণ শিল্পী। বয়স হয়েছিল ৯৭।

বাঙালির ‘ছোটবেলার জাদুকর’ হিসাবে খ্যাত নারায়ণ দেবনাথের মৃত্যুতে মর্মাহত হয়ে পড়েছেন তার অনুরাগীরা। শোকের বার্তায় নাম পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীরও।


গেলো ২৪ ডিসেম্বর কলকাতার মিন্টো পার্কের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় প্রবীণ শিল্পীকে। তাকে রাখা হয়েছিলো ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে।

১৩ জানুয়ারি প্রবীণ শিল্পীর সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেন মন্ত্রী অরূপ রায়। সেখানেই তার হাতে তুলে দেয়া হয় পদ্মশ্রী সম্মান। হাসপাতালে শয্যাশায়ী অবস্থাতেই তিনি তা গ্রহণ করেন।

গত শনিবার রাত সোয়া ন’টার দিকে শিল্পীকে ভেন্টিলেশনে দেয়া হয়। আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু শেষরক্ষা আর হলো না।

গত শতাব্দীর পাঁচের দশক থেকেই নারায়ণ দেবনাথের আঁকার সঙ্গে পরিচয় বাঙালি পাঠকের। দেব সাহিত্য কুটিরের ‘শুকতারা’ তার অলঙ্করণ শুরুতেই সবাইকে মুগ্ধ করেছিল।


শৈল চক্রবর্তী, প্রতুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের সঙ্গে রাতারাতি পাঠকের আপনজন হয়ে উঠতে শুরু করেন দেবনাথ।

কিন্তু ছয়ের দশকের গোড়ার দিকে শুকতারার সম্পাদকের অনুরোধে ‘হাঁদা ভোঁদা’ এর জন্ম সাল থেকেই নারায়ণের সঙ্গে ছোট্ট ছেলেমেয়েদের একটা না লেখা সম্পর্কের সূচনা হয়ে যায়।

অল্প সময় পরেই আসে আসে জনপ্রিয় চরিত্র ‘বাঁটুল দি গ্রেট’। এসে পড়ে ‘নন্টে ফন্টে’, ‘বাহাদুর বেড়াল’-রা। সব কটি সিরিজই পায় তুমুল জনপ্রিয়তা। যার ছড়িয়ে পরে গোটা বাংলায়।

জনপ্রিয়তায় সেসবের মতো না হলেও ‘শুঁটকি আর মুটকি’, ‘পটলচাঁদ দ্য ম্যাজিশিয়ান’, ‘গোয়েন্দা কৌশিক রায়’-রাও বাঙালি পাঠকের বহু নিরলস দুপুরের সঙ্গী হয়েছে।


নারায়ণ দেবনাথের কমিক্স এতোটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো যে, এক পর্যায়ে তাকে মূল পেশা অলংকরণ শিল্প থেকে হাত গুটিয়ে নিতে হয়েছিলো।

হালে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বাংলার শৈশবের দৃশ্যপট বদলে গেলেও নারায়ণ দেবনাথ ছিলেন অমলিন। আর সেখানে মনে হয় সবচেয়ে বড় সম্মোহনী বিদ্যা দেখিয়েছেন এই আঁকিয়ে যাদুকর।

শিল্পীর মৃত্যু হলেও শিল্পের হয় না। তাই সামনের সময়েও বাংলার কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের অলস সময়ে বারবার ফিরে আসবেন নন্টে ফন্টে আর হাঁদা ভোঁদারা।


একাত্তর/টিএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন