ঢাকা ২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

অভিনেত্রী শিমু হত্যায় অংশ নেয় স্বামীর বন্ধুও

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারী ২০২২ ১৯:১৩:০৮ আপডেট: ২১ জানুয়ারী ২০২২ ১৯:১৩:৩৮
অভিনেত্রী শিমু হত্যায় অংশ নেয় স্বামীর বন্ধুও

ঢাকাই চলচ্চিত্র ও টিভি অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তার স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদ। তারা দুইজন মিলে শিমুকে হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকার করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা এ জবানবন্দি দেন।  জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল জানান, বৃহস্পতিবার আসামিদের রিমান্ড চলাকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে চাইলে তা রেকর্ড করার আবেদন করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবীর জানান, শিমুকে নোবেল একা শ্বাসরোধ করেননি। এ সময় ঘটনাস্থলে ফরহাদ উপস্থিত ছিলেন। তারা দুজনে মিলেই হত্যা করেছে।


হুমায়ন কবীর বলেন, ফরহাদ নোবেলের বাল্যবন্ধু। তিনি ঢাকায় একটি মেসে থাকেন। তার তেমন উপার্জন নেই। তিনি মাঝে মধ্যেই নোবেলের বাসায় আসেন, তারা খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি সপ্তাহে অন্তত দু’তিন দিন সকালবেলা নোবেলের বাসায় এসে আর্থিক সাহায্য নিতেন। ঘটনার দিনও তিনি সকালে নোবেলের বাসায় যান এবং পরে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নোবেল একসময় নেশায় আসক্ত ছিলেন। এখন তিনি কিডনি ও লিভারের সমস্যাসহ নানা রোগে ভুগছেন। ফলে শারীরিকভাবে তিনি অনেকটাই দুর্বল। রোববার সকালে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে শিমুকে একা কাবু করতে পারছিলেন না নোবেল। তখন ফরহাদ বন্ধুর পক্ষ নেন। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে শিমুর মৃত্যু হয়।

পুলিশ বলছে, রবিবার সকাল সাতটা থেকে আটটার মধ্যে গ্রিনরোডের বাড়িতে শিমুকে হত্যা করা হয়। পরে নোবেল ও ফরহাদ দুটো বস্তায় শিমুর শরীরের দুপাশ মুড়িয়ে মাঝ বরাবর প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করেন। এরপর বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে বাড়ির দারোয়ানকে নাশতা আনতে বাইরে পাঠিয়ে বস্তাটি নিচে রাখা নোবেলের গাড়ির পেছনে তোলেন। ওইদিন সকালে তারা লাশ নিয়ে মিরপুরের দিকে যান। কিন্তু সেখানে লাশ ফেলার জায়গা না পেয়ে আবারও ফিরে আসেন। পরে তারা রাতে কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশে ঝোপের ভেতরে ফেলে আসেন।

আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে পরের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি বুঝে: শিক্ষামন্ত্রী

গত সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ৪১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী সপরিবারে ঢাকার কলাবাগান থানাধীন গ্রিন রোড এলাকায় বসবাস করতেন। পরের দিন মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার সংবাদ সম্মেলনে জানান, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলেও তারা (খুনি) কিছু চিহ্ন রেখে যায়। আমরা তাৎক্ষণিক গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করি। পরে দুজনকে আটক করা হয়।

পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, খন্দকার শাখাওয়াত আলীম ও রাইমা ইসলাম দম্পতির ১৫ বছরের এক মেয়ে এবং সাত বছরের এক ছেলে রয়েছে।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন