ঢাকা ২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

রাতের আধাঁরে মাটিতে মিলিয়ে যাচ্ছে পাহাড়

জালাল উদ্দিন রুমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী ২০২২ ২০:২৯:০৩
রাতের আধাঁরে মাটিতে মিলিয়ে যাচ্ছে পাহাড়

ভূমি দস্যুদের খপ্পরে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় একের পর এক পাহাড় মিশে যাচ্ছে সমতলে। রাতের আধাঁরে পাহাড় কেটে সমতলে মিশিয়ে দিচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বার বার প্রশাসনকে জানানোর পরও নজরদারির অভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না। আর প্রশাসনের দাবি, জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কাজ করছেন তারা।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড়ের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। পাহাড়কে বলা হয় পৃথিবীর পিলার। এর ওপর ভর করেই প্রকৃতি তার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

অথচ এক শ্রেণির ভূমি দস্যুদের খপ্পরে পড়ে সেই পাহাড় গুলোকে উজাড় হচ্ছে প্রতিদিন। সীমান্ত জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলাও পাহাড়ও বাদ পড়েনি এমন দস্যুদের হাত থেকে।

ঘটনা সরেজমিনে দেখতে কাসবার পাহাড়ে গিয়ে এই প্রতিবেদকের চোখে পড়ে  পাহাড় কাটার অপেক্ষায় পাহাড় ঘেঁষেই দাঁড়িয়ে আছে একটি ভেকু মেশেন।

সন্ধ্যা নেমে এলেই শুরু হবে পাহাড় কাটা। চলবে ভোর পর্যন্ত। এর মধ্যেই মাটিতে মিলিয়ে যাবে আস্ত একটি পাহাড়। এভাবেই চলে বনাঞ্চলের আবৃতে ঘেরা পাহাড় কাটার ধুম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সীমান্তবর্তী গোপীনাথপুর ও বায়েক ইউনিয়নে চলছে পাহাড় কাটার এই উৎসব। উঁচু পাহাড়ের মাঝ দিয়ে মাটি কেটে সমতল করা হচ্ছে।

মাটি কেটে সেগুলোকে টাক্টরে করে বিভিন্নস্থানে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার অনেকেই গর্ত বা জমি ভরাট করে ঘর বাড়ি নির্মাণ করছে।

বিগত কয়েক বছরে এ অঞ্চলের প্রায় অর্ধেকের চেয়ে বেশি পাহাড় ও টিলা কেটে সমতল করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ কুলুপ।

এলাকাবাসী বলছেন, বিনা বাঁধায় মাইলের পর মাইল পাহাড় সাবাড় করা হচ্ছে। কেটে ফেলা হচ্ছে বড় বড় গাছ। প্রশাসনকে বার বার জানালেও তারা কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, সরকারি রেকর্ডে পাহাড় বা টিলা চিহ্নিত না থাকায় এখনই পরিবেশ আইনে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তারা। তবে অন্য আইনে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন: উচ্চতা নয়, ভোটারদের কাছে যোগ্যতাই বড়

আর, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলম বলেন, একটি চক্র গভীর রাতে পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। অভিযান চালালে ওই মহলটি পালিয়ে যায়।

তবে, সার্বক্ষণিক বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। যারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা হচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন।

একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন