ঢাকা ২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ময়লার গা‌ড়ি‌তে মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ, সামা‌জিক মাধ্যমে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিনিধি, শেরপুর
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী ২০২২ ২১:৩৫:৪৬ আপডেট: ২৮ জানুয়ারী ২০২২ ২১:৪৯:৩২
ময়লার গা‌ড়ি‌তে মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ, সামা‌জিক মাধ্যমে তোলপাড়

শেরপু‌রের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক তালাপতুফ হোসেন মঞ্জুর মরদেহ পৌরসভার বর্জ্য ফেলার গাড়িতে করে কবরস্থানে নেওয়া হয়েছে। দাফ‌নের পর এক‌টি ছ‌বি সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ‌্যমে ভাইরাল হ‌লে, এ নিয়ে তোলপার শুরু হয় জেলাজু‌ড়ে। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়রা।

জানা গে‌ছে, বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুক্তিযোদ্ধা তালাপতুফ হোসেন মঞ্জু। এরপর দুই দফায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শেরপুর পৌর পার্কে। 

জানাজা শেষে এই মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনের জন্য পৌরসভার বর্জ্য ফেলার গাড়িতে করে শেরপুর পৌর কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। দাফ‌নের প‌রে সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ‌্যম ফেসবু‌কে সেই ছ‌বি পোস্ট করে অনেকে। এতে মুহু‌র্তেই সেই ছবি ছ‌ড়ি‌য়ে প‌ড়ে ফেসবু‌কে। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ শোনার পর শেরপুরে যে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রথম হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে মঞ্জু অন্যতম। মঞ্জুর ভাই পাক-বাহিনীর সঙ্গে সন্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের দুর্দিনে রাজপথে সংগ্রাম করেছেন এই মঞ্জু। আজ বুক ফেটে যায়, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও শেষ বিদায়বেলায় তাকে ময়লার গাড়িতে করে কবরস্থানে আসতে হলো।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরো বলেন, যেকারো মরদেহ পৌরসভার আবর্জনা ফেলার গাড়িতে বহন করলেও আমরা লজ্জা পাই। একজন মুক্তিযোদ্ধার মরদেহও ময়লার গাড়িতে করে যাবে, এটা আমাদের জন্য কষ্টের। 

আরও পড়ুন: করোনাকালে দেশে সর্বোচ্চ শনাক্তের হারের রেকর্ড

নাগরিক সংগঠন জন উদ্যোগের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সশরীরে বীর মুক্তিযোদ্ধা তালাপতুফ হোসেন মঞ্জুর জানাজায় গিয়েছিলাম। উনার দাফন পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম। তবে একজন মুক্তিযোদ্ধার মরদেহও পৌরসভার ময়লার গাড়িতে আসলো, সেটা মানতে কষ্ট হচ্ছে। 

শেরপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন বলেন, মরদেহ বহনকারী গাড়ি কেনার জন্য এখন পর্যন্ত পৌর তহবিলে ২২ লাখ টাকা জমা হয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হবে।


একাত্তর/আরবিএস   

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন