ঢাকা ১৭ আগষ্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯

নিয়ন্ত্রণে আসেনি ভোজ্য তেলে দাম, বাড়তি নিত্যপণ্যও

অনুপ অধিকারী তরুণ, একাত্তর
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২১:৫৪:০৪
নিয়ন্ত্রণে আসেনি ভোজ্য তেলে দাম, বাড়তি নিত্যপণ্যও

রাজধানীর বাজারে ভোজ্য তেলের বাড়তি দাম এখনো নিয়ন্ত্রণ হয়নি। সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম গেল সপ্তাহে আরেক দফা বেড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে টিসিবি। 

এছাড়া মাঝারি মানের চাল, পেঁয়াজের মতো সাতটি নিত্যপণ্যের দামও উর্ধ্বমুখী। নাগালে আসেনি শীতের সবজি এবং মাছের দাম। 

তেল নিয়ে তেলেসমাতি যেন থামছেই না। লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে ভোজ্য তেলের দাম। গত রোববার সয়াবিনের দাম লিটার প্রতি আরো আট টাকা বাড়িয়ে ১৬৮ টাকা করে সরকার। 

নতুন তালিকা অনুযায়ী প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৬৮ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম সাত টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪৩ টাকায়। 

যথারীতি ব্যবসায়ীরা অজুহাত দেখাচ্ছেন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তি। তেলের দাম স্থির থাকছে না। তাই বাধ্য হয়ে দাম বাড়াতে হচ্ছে। 

তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজার কয়েক মাস আগে কমতির দিকে ছিলো। তখন কিন্তু দাম কমেনি। এখন সেখানে দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এখানেও বাড়িয়ে দিয়েছে। 

এদিকে, গেল এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে দেশি হলুদ ও পেঁয়াজ, দারুচিনি, মাঝারি চাল ও খোলা ময়দার।

গত কয়েক দিনে মানভেদে বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) চালের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। পাইকারি বাজারে চালের দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে বেশি।

বাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। এছাড়া প্যাকেট চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। আটা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। দেশি ডালের কেজি ১২০ টাকা। 

এদিকে, মাঘের শেষেও ক্রেতাদের মূলা কিনতে হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। ফুলকপি-বাঁধাকপির প্রতিটি এখনো বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। 

এছাড়া, গোল বেগুন ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, গাঁজর প্রতি কেজি ৫০ টাকা, চাল কুমড়া পিস ৪০ টাকায়। 

আর, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা।

আকারভেদে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকা, কাঁচা কলার হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং কাঁচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। 

চায়না রসুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। দেশি আদার কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা।

আরও পড়ুন: সার্চ কমিটিতে ১০ জনের নাম আওয়ামী লীগের

চলতি মৌসুমে সবজির দাম না কমার কারণ সম্পর্কে সেই পুরনো অজুহাতের কথাই বলছেন খুচরো পর্যায়ের বিক্রেতারা। যদিও তাদের দাবি পক্ষে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সবজির মতো এখন মাছের বাজারও চড়া। তেলাপিয়া, পাঙ্গাস আর চাষের কৈ ছাড়া অধিকাংশ মাছই এখন নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে। 

এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা প্রতি পিস, ছোট ইলিশ মাছ কেজি প্রতি ৩৫০ থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। 

আরও পড়ুন: ইউক্রেনকে তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলছে রাশিয়া

চিংড়ি মাছ ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। রুই মাছ ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা। কাতল মাছ ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা। তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা।

ভোক্তারা বলছেন, পণ্য-মূল্যের লাগাম টানতে বাজার মনিটরিং হওয়া দরকার। তবে ভোক্তাদের চাওয়া থাকলেও রাজধানীতে নিয়মিত অভিযান নেই বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর।


একাত্তর/আরবিএস  

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৫ দিন আগে