ঢাকা ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯

বসন্ত দিনে ফুলচাষিরা, সুদিন ফেরায় মুখে হাসি

এস এম ফরহাদ, যশোর
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৯:০৯:৩৭ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৯:১১:২১
বসন্ত দিনে ফুলচাষিরা, সুদিন ফেরায় মুখে হাসি

বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে জমে উঠেছে যশোরের গদখালির পাইকারি ফুলের বাজার। এরই মধ্যে ১০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়ে গেছে। 

চাষিরা বলছেন, ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্য আছে তাদের। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুলের ফলন ভালো হয়েছে এবং ভাল দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট ফুল চাষিরাও। 

গদখালি বাংলাদেশের ফুলের রাজধানী হিসাবেই পরিচিত। যশোর জেলা শহর থেকে বেনাপোলের দিকে ১৮ কিলোমিটার এগুলেই গদখালি বাজার। 

সেখানে আসা ফুলগুলো যশোর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ঝিকরগাছা ও শার্শা থানার ৯০টি গ্রামের প্রায় চার হাজার বিঘা জমিতে চাষ করা হয়।

সেই গদখালি বাজারে এখন শুধু ফুল আর ফুল। গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জিপসি, কেলেনডোলা, রডস্টিক চন্দ্রমল্লিকাসহ নানান ফুলে ছেয়ে গেছে পুরো বাজার। 

বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস আর একুশে ফেব্রুয়ারি এই তিন উৎসবকে সামনে রেখে ফুলের কেনাবেচায় সরগরম পুরো এলাকা। 

জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ফুল নিয়ে বাজারে এসেছেন ফুল চাষিরা। তারা বলছেন, বছরের অন্য সময় ফুলের চাহিদা থাকলেও তাদের বিক্রির মূল লক্ষ্য থাকে এসব উৎসবকে ঘিরে। 

ফুলচাষি হারুন-অর-রশিদ ও আবু মুসা জানান, তারা প্রত্যেকে এক একরের বেশি জমিতে ফুল চাষ করেছেন।ফুলের উৎপাদনও ভালো হয়েছে।

এই গদখালি থেকেই রাজধানী ঢাকা, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাইকারিভাবে বিক্রির জন্য ফুল পাঠানো হচ্ছে। বাজারে আসছেন বিভিন্ন এলাকার পাইকাররাও।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের স্বপ্ন দেখছেন ফুলচাষিরা। গেল বছর ফুল বিক্রি বেশ কম ছিলো। তাই তাদের আশা, এবার সময় এসেছে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার।

এবার বছরের এই সময়টায় সংক্রমণ কম থাকায় ব্যবসায়ীদেরও ভিড় বেড়েছে। সেই সুযোগে পাইকারি দামেই প্রতি ফুলে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেশি নিচ্ছেন চাষিরা। 

মানভেদে গোলাপ বিক্রি হচ্ছে প্রতিপিস ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। জারবেরা ফুল প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১২টাকা। রজনীগন্ধা ষ্টিক ৮টাকা।

গ্লাডিওলাস কালারভেদে ১৪ থেকে ১৭টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গাঁদা ফুল বিক্রি হচ্ছে প্রতি হাজার পাঁচশ থেকে আটশ’ টাকা পর্যন্ত। 

এছাড়া জিপসি, রডস্টিক, কলনডোলা, চন্দ্রমল্লিকা, কামিনীপাতা ফুলের দামও ভালো বলে জানিয়েছেন গদখালি বাজারে আসা চাষিরা।

ফুল ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, চাহিদা থাকায় এ বছর প্রায় ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবার আশা করছেন তারা। এর চেয়ে বেশিও হতে পারে বলে জানালেন তারা। 

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ জানালেন, ফুলের চাষ বাড়াতে কৃষি বিভাগ প্রদর্শনীসহ ফুলচাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।

চলতি মৌসুমে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ করেছেন ফুলচাষীরা। বছরে প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয় এ অঞ্চলে। 


একাত্তর/ এনএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন