ঢাকা ১২ আগষ্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

খায়রুজ্জামানকে ঢাকায় ফেরাতে মালয়েশিয়ার হাইকোর্টের ‘না’

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৬:০১:১৪ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২০:৫৯:০৮
খায়রুজ্জামানকে ঢাকায় ফেরাতে মালয়েশিয়ার হাইকোর্টের ‘না’

মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সাবেক হাই কমিশনার ও জেল হত্যা মামলার সন্দেহভাজন এম খায়রুজ্জামানকে ঢাকায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আদালত।

দেশটির সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) খায়রুজ্জামানের স্ত্রী রিটা রহমানের আইনজীবীর করা আবেদনে মালয়েশিয়ার হাইকোর্টর বিচারপতি মোহাম্মদ জাইনি মাজলান অন্তর্ববর্তীকালীন এই আদেশ দিয়েছেন।

ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, খায়রুজ্জামানের আইনজীবী আদালতে যে ‘হেবিয়াস করপাস রিট’ করেছেন, সে বিষয়ে শুনানির জন্য ২০ মে পরবর্তী তারিখ রেখেছেন বিচারক। 

ওই খবরে আরও বলা হয়, কাউকে ‘বেআইনিভাবে’ আটক করার অভিযোগ উঠলে তাকে আদালতের সামনে হাজির করার জন্য এ ধরনের রিট মামলা হয়।

আইনজীবীদের বরাত দিয়ে ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানায়, খায়রুজ্জামান মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। তার নামে ইউএনএইচসিআরের কার্ডও ছিল। তিনি অভিবাসন আইন ‘ভঙ্গ করেননি’, ফলে তাকে আটকে রাখা ‘বেআইনি’।

আদালতের স্থগিতাদেশের পরও গতবছর মিয়ানমারের কযেকজন নাগরিককে মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানোর কথা মনে করিয়ে দিলেও বিচারক বলেন, আদালতের আদেশের পরও তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে- এমন কিছু আমি শুনতে চাই না। আমি আশা করি, ইমিগ্রেশন বিভাগ বিষয়গুলো নিজেদের কাঁধে তুলে নেবে না।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সকালে রাজধানীর আমপাংয়ের নিজ বাসা থেকে এম খায়রুজ্জামান গ্রেপ্তার করে দেশটির অভিবাসন পুলিশ।

১৯৭৫ সালের জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা অভিযুক্ত ছিলেন। ১৯৭৫ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি পাওয়ার পরে তিনি মিসর, ফিলিপাইন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে তাকে অবসরে পাঠানো এবং গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তিনি চাকরিতে মহাপরিচালক হিসেবে পুনর্বহাল হন। পরের বছর নির্দোষ বলে আদালত রায় দেন। ২০০৫ সালে তিনি মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন।

আরও পড়ুন: ‘হুদা কমিশনের চেয়েও ‘বেহুদা’ কমিশন গঠন করবে সার্চ কমিটি’

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে ডেকে পাঠানো হলে তিনি বিপদ আঁচ করতে পেরে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘ উদ্বাস্তু কার্ড সংগ্রহ করেন এবং ওই সময় থেকে তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১০ দিন আগে